‘তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে কেউ হাত দিলে তার হাত পুড়ে যাবে’

সময়ের কণ্ঠস্বর: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় কেন্দ্র করে কেউ যদি মনে করেন, আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসবে, তবে তারা ভুল স্বর্গে আছেন। কারণ এ ইস্যুতে কেউ হাত দিলে তার হাত পুড়ে যাবে।

রবিবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আহমেদ মোহাম্মদ আল দেহাইমির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে সংসদকে নয়, সংসদীয় ব্যবস্থাকে অপরিপক্ক বলেছেন প্রধান বিচারপতি, তিনিই অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বাদ দিতে পারেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রধান বিচারপতি বাস্তবতা বুঝতে পেরেছেন। এ জন্য তিনি মিসকোট (ভুল ব্যাখ্যা) না করতে বলেছেন। এ কারণে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ তাঁকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। এর অর্থ এই নয় যে আমরা নমনীয়। আমরা এখন ক্ষমতায় আছি। আওয়ামী লীগ দেশের অনেক পুরোনো একটি রাজনৈতিক দল। আমাদের দলটি পোড়খাওয়া দল।

ষোড়শ সংশোধনীর রায় দেশের মানুষ মেনে নেয়নি বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের দুটি বক্তব্যের সমালোচনা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল বলেছেন যে লজ্জা থাকলে সরকার পদত্যাগ করবে। আর মওদুদ আহমদ বলেছেন, এ রায়ের আলোকে সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। আমি বলতে চাই, আমাদের লজ্জা আছে। বিএনপির লজ্জা নেই। এই মওদুদ আহমদই বিচারপতিদের বয়স বৃদ্ধি করে বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। আইনের শাসনের পরিপন্থী অনেক আইন করেছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম রায় না পড়েই রায়ের বিষয়ে কথা বলছেন বলেও অভিযোগ করেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে যে উনার একক নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, ১ তারিখের পর থেকে এই রায় নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। ১০ তারিখ পর্যন্ত দেশের কোনো মিডিয়াতেই আমাদের বক্তব্য আসেনি। একতরফাভাবে বিএনপি এবং রায়ের পর্যবেক্ষণের পক্ষেই লেখালেখি ও সংবাদ ছাপা হয়েছে। সবার কাছেই মনে হয়েছিল যে সরকারের বিরুদ্ধে একটা মোক্ষম কিছু পেয়ে গেছেন।