বাংলাদেশ অলআউট

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুঃস্বপ্নের শুরুর পর সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের দুর্দান্ত প্রতিরোধ। এরপর হঠাৎ ছন্দপতন। এবার মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাসির হোসেনের প্রতিরোধ। এরপর অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়া। শুরু আর শেষের হতাশাজনক ব্যাটিংয়ে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

রোববার মিরপুরের শের-ই-বাংলা টসে জয়লাভ করে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুশফিকুর রহীম। দলীয় ১০ রানের মধ্যে সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান ও ইমরুল কায়েসকে হারিয়ে বাংলাদেশের বিপর্যয়ের শুরু। তামিম-সাকিব এবং মিরাজ-নাসিরের প্রতিরোধের পর শেষের দিকে ২০ রানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা।

বাংলাদেশের হয়ে ৫০তম টেস্ট খেলতে নামা সাকিব ৮৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দেন। সমান ৫০তম টেস্ট খেলতে নামা তামিম করেন ৭১ রান। নাসির ২৩ এবং মুশফিক ও মিরাজ সমান ১৮ রানের ইনিংস খেলেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন ও অ্যাস্টন অ্যাগার। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল নেন একটি উইকেট।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। দলীয় ১০ রানের মাথায় কামিন্সের বলে হ্যান্ডসকম্বের হাতে ক্যাচ দিয়ে সৌম্য সরকার ফিরে গেলে বাংলাদেশের পতনের শুরু। বিদায় নেওয়ার আগে দুটি চারের সাহায্যে ৮ রানের ইনিংস খেলেন সৌম্য।

সৌম্যের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামেন ইমরুল কায়েস। সুবিধা করতে পারেননি তিনিও। কোনো রান না করেই কামিন্সের বলে উইেকেটের পেছনে ম্যাথু ওয়েডের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ইমরুল। দলের রান তখনও ১০।

কামিন্সের করা পরের বলেই বাংলাদেশের তৃতীয় উইেকেটের পতন হয়। অজি পেসারের শিকার এবার সাব্বির রহমান। ইমরুলের পর ব্যাট করতে নামা এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানও ইমরুলের মতো রানের খাতা খোলার আগেই উইকেটের পেছনে ম্যাথু ওয়েডের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন।

সাব্বিরের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামেন সাকিব আল হাসান। শুরুতে একটু নড়বড়ে মনে হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেটে থিতু হন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তামিমকে সঙ্গে নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতির আগ পর্যন্ত বাকি সময়টা নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দেন তিনি। বিরতি থেকে ফিরে প্রথমে অর্ধশতক তুলে নেন সাকিব। পরে তাকে অনুসরণ করেন তামিম।

চতুর্থ উইকেটে দেড় শতাধিক রান সংগ্রহ করা এই জুটি যখন প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল তখনই তাতে বাধ সাধেন অজি পার্টটাইম বোলার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তার অফস্পিনে কাট করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে তামিম বিদায় নিলে ভাঙে ১৫৫ রানের জুটি। সাজঘরে ফেরার আগে ৫টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে ৭১ রান করেন তামিম।

তামিমের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামা টাইগার দলপতি মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে আবারও ইনিংস মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যান দারুণ খেলতে থাকা সাকিব। তবে বেশিদূর এগোতে পারেননি। সেঞ্চুরির স্বপ্ন জাগানো সাকিব অজি স্পিনার নাথান লিয়নের বলে স্লিপে স্টিভেন স্মিথকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।

বাংলাদেশের ইনিংসকে টেনে তোলার আগেই দলীয় ১৯৮ রানের মাথায় অ্যাস্টন অ্যাগারের বেল মুশফিক লেগ বিফারের ফাঁদে পড়লে হোঁচট খায় স্বাগতিকরা। মিরাজ ও নাসির মিলে ৪২ রানের দারুণ জুটি গড়লে চাপ অনেকটাই কাটিয়ে ওঠে বাংলাদেশ।

তবে এরপরই ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের। দলীয় ২৪০ রানের মাথায় লায়নের বলে হ্যান্ডসকম্বের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন মিরাজ। এরপর দলীয় ২৪৬ রানের মাথায় পরপর ফিরে যান নাসির ও তাইজুল ইসলাস। নাসিরকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন অ্যাগার। লায়নের বলে একই পরিণতি বরণ করেন তাইজুল। ১৭ বলে ১৩ রান করা তাইজুলকে ক্যাচ আউটের শিকার বানিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের যবনিকা টানেন অ্যাগার।

২০০৬ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। সেবার টাইগারদের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও দুইটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল অজিরা। তারপর বাংলাদেশের বিপক্ষে আর কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেনি অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘ ১১ বছর পর আবার অজিদের মুখোমুখি হলো বাংলাদেশ। শক্তিমত্তায় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এর আগে চারটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। চারটি ম্যাচই হেরেছে টাইগাররা।

বাংলাদেশ একাদশ:
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক ও অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর রহমান।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ:
ডেভিড ওয়ার্নার, ম্যাট রেনশ, স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), উসমান খাজা, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাথু ওয়েড (উইকেটরক্ষক), অ্যাস্টন অ্যাগার, প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজলেউড  এবং নাথান লায়ন।

আরআই