পুলিশের এসআই পদে পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের দাবি পরীক্ষার্থীদের

সময়ের কণ্ঠস্বর- পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে লিখিত পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের দাবি জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।

তাদের অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষায় ভালো করলেও ফল প্রকাশের সময় দেখা গেছে, যাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে তদবির ছিল, তাদেরকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে। খাতা পুনঃনিরীক্ষণের দাবি জানিয়ে পরীক্ষার্থীরা পুলিশ সদরের রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং শাখায় আবেদন করেছেন।

এদিকে লিখিত পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন জানিয়ে গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করেছেন এক পরীক্ষার্থী। দু’একদিনের মধ্যে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় প্রায় ৪০ হাজার প্রার্থী অংশ নেয়। গত ৩ আগস্ট এই পরীক্ষার ফল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩ হাজার ৫১৭ জন উত্তীর্ণ হন।

অভিযোগকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নড়াইলের লোহাগড়া থানার ঝাউডাঙা গ্রামের আব্দুল কাদের খাঁন বলেন, আমার পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। যে কপ্রশ্নপত্র রা হয়েছে তাতে আমি শতকরা ৭৫ ভাগ নম্বর পাবো। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে ন্যূনতম ৪৫ যারা পেয়েছেন, তাদেরকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে। যাদেরকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে, তাদের অনেকেরই আগে থেকে নিয়োগের জন্য তদবির করেছিলেন। যারা তদবির করেছেন, তাদেরকেই উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ভালো পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও যেহুতো আমাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে তাই আমার খাতা আদালতের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগের জন্য হাইকোর্টে রিট করেছি। আশা করি দু’একদিনের মধ্যে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হবে।

আরেক পরীক্ষার্থী খুলনার সোনাডাঙা থানার রাশেদুন্নবী বলেন, ‘এসএসসি, এইচএসসি ও বিসিএস পরীক্ষায় খাতা পুনঃনিরীক্ষণের পদ্ধতি চালু আছে। সরকারের অনেক নিয়োগ পরীক্ষায় খাতা পরীক্ষার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়। পুলিশে সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ পরীক্ষায় এই পদ্ধতি চালু করা উচিত। এ পদ্ধতি চালু করা হলে, প্রকৃত মেধাবীরাই পুলিশে যোগ দিতে পারবে’।

পুলিশ সদর দফতরের রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্লানিং শাখায় পরীক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি আবেদন পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘৩ আগস্ট ফল প্রকাশের পর সেখানে আমাদের রোল দেখতে না পেয়ে আমরা হতাশাগ্রস্ত ও বিস্মিত হয়েছি। আমাদের মনে হয় খাতা দেখার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কোন সমস্যা হতে পারে। এ জন্য আমরা খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করছি।’

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী গোপালগঞ্জের কাশীয়ানি থানার একজন পরীক্ষার্থী বলেন, ‘ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, তার থানায় যেসব কম মেধাবি তারা উত্তীর্ণ হয়েছেন। কয়েকজন রয়েছেন, যারা ১০ লাখ টাকা থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। তারাই উত্তীর্ণ হয়েছেন।’

একই অভিযোগ করে নড়াইলের লোহাগড়া থানার চর কোটাকোল গ্রামের মো. জাহিদুর রহমান নামে আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ব্যাপারে রিক্রটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্লানিং শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। সেসব আবেদন আমরা তদন্তও করেছি। এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় পুলিশের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জগুলোতে। সেখান থেকে খাতা পরীক্ষা করে নম্বর পুলিশ সদর দফতরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কোড নম্বর বসিয়ে খাতা দেখা হয়। তাই এখানে তদবির করা বা কে কার আত্মীয়—সেটা বোঝার কোন সুযোগ থাকে না। খাতায় যদি নম্বর বাড়ানোর সুযোগ থাকত তাহলে তো আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেন। এই পরীক্ষায় যারা মেধাবী তারাই উত্তীর্ণ হয়েছেন।

আরআই