রায় শুনেই মাফ চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রাম রহিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- অবশেষে ধর্ষণের দায়ে ১০ বছরের সাজা ঘোষণা করা হলো ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং এর বিরুদ্ধে। সোমবার (২৮ আগস্ট) রোহতকের জেলে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারপতি জগদীপ সিং।

এদিন বিচারক তার রায় পড়া শুরু করলে সেসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাম রহিম। রায় পড়া শেষে হলে রাম রহিম দোষ স্বীকার করে নিয়ে আরো কম সাজার জন্য আবেদন করেন। এসময় প্রবল প্রতাপশালী এই ধর্মীয় গুরু কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন ‘মুঝে মাফ কার দো (আমাকে মাফ করে দাও) ’।

আদালতে উপস্থিত কয়েকজনের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, রায় পড়ে শোনানোর সময় আদালতে সবার সামনে দুই হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাম রহিম। পরে সাজা শোনানো হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময় সবার কাছে ক্ষমা চান তিনি।

এদিকে রায়ের সময় আদালতের ভেতরে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখতে বলা হয়। আদালতের নির্দেশের আগে রায় প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয় গণমাধ্যমগুলোকেও। রায় প্রকাশের পর ডেরা সাচা সৌদার পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হবে।

আজ রায় ঘোষণার সময় রোহতা এলাকায় লক্ষাধিক রাম রহিম ভক্ত জড়ো হয়। রোহতাকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শনিবার রাত থেকেই শহরটিতে ১০ কোম্পানি আধা সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

রায়ের আগেই রোহতাক জেলায় জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ রোহতাকে ঢুকলে আটক করা হবে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া জেলার সব গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রাতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেয় প্রশাসন।

২০০২ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি এবং পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যের প্রধান বিচারপতিদ্বয়ের কাছে বেনামি চিঠিটি লেখেন হরিয়ানার সিরসা শহরের ‘গুরু’ রাম রহিমের ডেরার (আস্তানা) এক নারী। সেখানে আনা হয় রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকির অভিযোগ। তুলে ধরা হয় ডেরার ভেতরে বিভিন্ন অনাচারের কথা।

বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই পার হওয়ার পর শুক্রবার দেওয়া রায়ে প্রমাণিত হয় সেই চিঠিতে লেখা অনেক অভিযোগ। ভারতের বিশেষ আদালত রাম রহিম সিংকে দোষী সাব্যস্ত করেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ৩৭৬ (ধর্ষণ) ও ৫০৬ (সন্ত্রাসী হুমকি) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারাবলে তাঁর সর্বনিম্ন সাত ও সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ হওয়ার কথা ছিল।

আরআই