তাড়াশে গরুর দাম কম, খামারীদের মাথায় হাত

আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শেষ মুহূর্তে কোরবানির পশুরহাট জমে উঠেছে। ভারতীয় গরু আসায় হাটগুলোতে প্রচুর সংখ্যক পশু উঠছে। মুল্য সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় ক্রেতারা পছন্দমত গরু কিনতে পারছেন। তবে বেকায়দায় পড়েছেন মুনাফার আশায় থাকা গৃহস্থ, খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার নওগাঁ, গুল্টা, তাড়াশ সদর, ধামাইচ, খালখুলাসহ বিভিন্ন পশুর হাটে ভারতীয় গরু আসতে শুরু করায় প্রচুর পশু উঠেছে। এই অবস্থায় ক্রেতার অভাবে গরুর দাম কমে গেছে। কিন্তু খামারীরা পড়েছে লোকসানের মুখে।

গরু ব্যবসায়ী প্রদীপ কর্মকার জানান, প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমী গুরু ব্যবসায়ীরা এখানে আসতেন। কিন্তু এবার তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে দাম কম। তিনি বলেন, বন্যাসহ নানা কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকার মৌসুমী গরু ব্যবসায়ীরা আসতে পারছেন না।

উল্লাপাড়ার খামারী আব্দুর রহিম জানান, ৫ টা গরু নিয়ে এসেছি। কিন্তু ক্রেতা কম। দামও কম বলছে। গত বছরের যে গরুর দাম ছিল ৪০/৫০ হাজার টাকা, এ বছর সেই গরু বিক্রি হচ্ছে ৩০/৪০ হাজার টাকায়। ঈদের দিন পর্যন্ত বাজার এমন থাকলে লোকসান গুনতে হবে। সপ্তাহে দুইদিন করে হাট বসলেও ঈদের আগের দিন পর্যন্ত একটানা গরুর হাট বসবে। ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলার গরুর হাটগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছাড়াও নিজস্ব লোকবলের মাধ্যমে ক্রেতা বিক্রেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাট কমিটির লোকজন।

অপরদিকে, উপজেলার বেশ কয়েকটি হাট-বাজার ঘুরে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ জন্য হাটে আগত গরুর ক্রেতারা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কারন অসুস্থ পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রতিটা হাটে তদারকির জন্য তাদের থাকার নিয়ম থাকলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি বলে অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেন।

তাড়াশ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু হানিফ এর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।