আব্দুল জব্বারের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে: ইনু

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর- কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল জব্বারের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আব্দুল জব্বারের মরদেহ দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।

বরেণ্য কন্ঠশিল্পী আবদুল জব্বার বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। আবদুল জব্বারের মৃত্যুতে দেশীয় সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন সংগীতশিল্পীরা।

কিংবদন্তি এই শিল্পীর মৃত্যুর খবর শোনার পর বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ছুটে যান তথ্যমন্ত্রী। এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সঙ্গীত জগতে আব্দুল জব্বারের বিকল্প নেই। তাই সরকারের পক্ষ থেকে আব্দুল জব্বারের যত কাজ আছে, সেসব একত্রিত করে আমরা তাকে যথাযথ সম্মান দেব। তার স্মৃতি রক্ষার্থে সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে, যা তাকে সম্মানিত করবে।’

ইনু বলেন, ‘আব্দুল জব্বার আমৃত্যু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মনে ধারণ করে বাংলাদেশের হাজার বছরের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি আমাদের জঙ্গিসন্ত্রাস এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে উৎসাহ দিয়েছেন।’

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, হৃৎপিন্ড, প্রস্টেটসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগেছেন আবদুল জব্বার। এ কারণে গত ৩১ মে থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। গঠন করা হয়েছিল চিকিৎসা সহায়তা কমিটি। গত শনিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার রাত থেকেই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন আবদুল জব্বার। তাঁর খাওয়া-দাওয়া বন্ধ ছিল।

হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘তাঁর কোনো কিডনিই কাজ করছিল না। কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরিবার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় শিল্পীর অবস্থার অবনতি হয়। এ পরিস্থিতিতে আমরা বোর্ড গঠন করে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিই। অবশেষে আজ চিরবিদায় নিলেন।’

‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘ওরে নীল দরিয়া’, ‘তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়’ এমন অসংখ্য কালজয়ি গান গেয়েছেন তিনি। আব্দুল জব্বার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হারমোনিয়াম নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের গান গেয়ে উদ্বুদ্ধ করেন।

সেই দুঃসময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গেয়েছেন অসংখ্য গান। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে শিল্পীর গাওয়া গান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে।

আরআই