পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিতা শুরু হচ্ছে আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- খোদার ঘরের মেহমানরা আজ আরাফার প্রান্তরে অনুভব করবেন রাব্বুল আলামিনের সেই মায়াভরা বাণী। যেখানে মধুর সুরে তিনি বলছেন- ‘নাহনু আকরাবু ইলাইহি মিন হাবলিল ওয়ারিদ। (কাফ, আয়াত-১৬)। অর্থ- হে আমার প্রিয় বান্দা, আমি তোমার শাহরগের কাছে থাকি। তাই তো আজ দিনভর আরাফার ময়দানে রাব্বুল আলামিনের অনুভব, অনুভূতির শিহরণ হবে প্রেমিক মনে।

আজ থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিতা। মক্কা ও মদিনা থেকে আগত হজযাত্রীরা মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে সূর্যাস্তের আগেই মিনায় তাঁবুতে অবস্থান হওয়ার পর থেকেই শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। মিনা মুখরিত হবে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে।

সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন সারাবিশ্ব থেকে সমবেত লাখ লাখ হাজী। ইহরাম পরিধান করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ২০ লাখ হাজীর কণ্ঠে ধ্বনিত হবে, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি মাতা লাকা ওয়ালকুম।’ এর বাংলা অর্থ হচ্ছে, ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সব সাম্রাজ্য তোমার।’

মক্কার গ্র্যান্ড ইমাম আরাফাত ময়দানের মসজিদে জোহরের নামাজের আগে খুতবা পাঠ করবেন। এরপর জোহর ও আছরের ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে হাজীরা জামায়াতের সাথে কছর নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির-আসকারে মশগুল থাকবেন। সূর্যাস্তের পর হাজীদের গন্তব্য মুজদালিফার দিকে। সেখানে উপস্থিত হয়ে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় শেষে সবাই বিশ্রাম নেবেন। মুজদালিফা থেকে পাথর সংগ্রহ করে আগামী ১০ জিলহজ্ব পহেলা সেপ্টেম্বর শুক্রবার মিনায় ফিরে যাবেন।

আগামী ১০ জিলহজ্জ, হজ্বের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার মিনায় পৌঁছার পর হাজীদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডানদিকে রেখে হাজীরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। হাজীরা মক্কায় ফিরে কাবা শরীফ ‘তাওয়াফ’ ও ‘সাঈ’ (কাবার চারদিকে সাতবার ঘোরা ও সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাতবার দৌড়ানো) করে আবার মিনায় ফিরে যাবেন।

হজের ‍তৃতীয় দিন ১১ জিলহজ্ব, শনিবার মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজীরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের উপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত। পরদিন ১২ জিলহজ্ব রবিবার মিনায় অবস্থান করে পুনরায় একইভাবে হাজীরা তিনটি শয়তানের উপর পাথর নিক্ষেপ করবেন। শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা শেষ হলে অনেকে সূর্যাস্তের আগেই মিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যান। আর মক্কায় পৌঁছার পর হাজীদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরীফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ী তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ী তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরীফে পুনরায় সাতবার চক্কর দেয়ার মাধ্যমে হাজীরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজ্বব্রত পালন।

আরআই