ফের অপারেশন থিয়েটারে মুক্তামণি

সময়ের কণ্ঠস্বর- রক্তনালীতে টিউমারে আক্রান্ত মুক্তামণির তৃতীয় দফা অপারেশন শুরু হয়েছে আজ মঙ্গলবার সকালে। সকাল সাড়ে নয়টার সময়ে মুক্তামনিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় মুক্তামণির অপারেশন শুরু করেও তা শেষ করতে পারেননি চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত জ্বর বাড়ার কারণে মাঝপথেই বন্ধ করতে হয় অপারেশন।

মুক্তামণির বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসেন বলেছেন, কিছুক্ষণ আগে মুক্তামণিকে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকেরাও প্রবেশ করেছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, কিছুক্ষণ আগে মুক্তামণির হাতের অপারেশন শুরু হয়েছে।

মুক্তামণি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি। রক্তনালির টিউমারে আক্রান্ত মুক্তামণির হাতে প্রথম দফায় অস্ত্রোপচার হয় ১২ আগস্ট। ওই সময় মুক্তামণির ডান হাত থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করেন চিকিৎসকেরা। আরও কয়েকটি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে বলে জানান তাঁরা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাশদাহ গ্রামের দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন ও আসমা খাতুন দম্পতির মেয়ে মুক্তামনির ডান হাতে প্রথমে টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তার হাতটি ফুলে অনেকটা কোলবালিশের মতো হয়ে যায়! একপর্যায়ে হাতে পচন ধরে। সাদা রংয়ের শত শত পোকা ঘুরে বেড়াতে থাকে সেই ফুলে যাওয়া অংশে। শরীরের অসহ্য ব্যথা ও যন্ত্রণায় মুক্তামণি বসতেও পারত না। হাতের সঙ্গে বুকের একাংশেও ছড়িয়ে পড়ে রোগটি। দীর্ঘ নয় বছরেও মুক্তার রোগ ধরতে পারেননি চিকিৎসকরা। এরপর সংবাদমাধ্যমে তার কথা উঠে এলে গত ১১ জুলাই মুক্তামণিকে ভর্তি করা হয় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরআই