আর অভিনয় করব না: মিশা সওদাগর

বিনোদন ডেস্ক– ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে প্রভাবশালী আর দাপুটে অভিনেতা হিসেবে যে ক’জন দীর্ঘদিন থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে আছেন, তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা মিশা সওদাগর। ঢাকাই ছবির সেই জনপ্রিয় খল অভিনেতা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি আর অভিনয় করবেন না।

দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাক্ষাতকারে তিনি এমনটাই জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি অনেক ভেবেচিন্তে কথাগুলো বলছি, অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চলচ্চিত্রে অনেক দিন তো হলো, এবার নিজের জন্য একটু সময় দিতে চাই। মহরত, শুটিং, ডাবিং, প্রিমিয়ার -এসব করেই তো জীবনের অনেকটা সময় পার করে দিয়েছি।

মিশা আরও বলেন, আমি টাকার জন্য বাঁচতে চাই না, নিজের জন্য বাঁচতে চাই। একই ধরনের চরিত্র, প্রায় একই ধরনের সংলাপ। আর কত? কোনো বৈচিত্র্য নেই। বৈচিত্র্যহীন কাজ করতে আর চাই না। চলচ্চিত্রকে আর পেশা হিসেবে দেখব না। যদি আমার বয়স আর সময় বুঝে কেউ তেমন কোনো চরিত্র নিয়ে আসে, আর তা যদি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে তেমন কাজ হয়তো মাঝে মাঝে করব। কিন্তু পেশা হিসেবে আর নয়।

হাতে থাকা ছবিগুলোর কাজ এই বছরেই শেষ করবেন বলে জানান মিশা। তিনি বলেন, কারও সঙ্গে আমার কোনো বৈরিতা (শত্রুতা) নেই। এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। আমি চলচ্চিত্র ছাড়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটি একেবারেই চূড়ান্ত।

অভিনয় ছাড়লেও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সঙ্গে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, আমি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি। সংগঠনে পর্যাপ্ত সময় দেব। চলচ্চিত্রের গুণগত পরিবর্তনের জন্য কাজ করব।

মিশা সওদাগর চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন ১৯৮৬ সালে। এফডিসি আয়োজিত নতুন মুখ কার্যক্রমে নির্বাচিত হন তিনি। ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘চেতনা’ ছবিতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন ১৯৯০ সালে। ‘অমরসঙ্গী’ ছবিতেও তিনি নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন।

পরবর্তীতে তমিজ উদ্দিন রিজভীর ‘আশা ভালোবাসা’ ছবিতে ভিলেন চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। এরপর একে একে সাতটি ছবিতে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। ১৯৯৪ সালে ‘যাচ্ছে ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথম খলনায়ক হিসেবে পর্দায় উপস্থিত হন মিশা। দীর্ঘ ২৭ বছরের অভিনয় জীবনে খল চরিত্রে নিজেকে কিংবদন্তি হিসেবেই তুলে ধরেছেন তিনি।

আরআই