অজ্ঞাত যুবতীর ৩৮ টুকরো লাশ! চাঞ্চল্যকর সেই রহস্যের নেপথ্য উদঘাটন হলো অবশেষে

আশুলিয়া প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর –
গত ১ সেপ্টেম্বর ঈদের আগের রাতে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি বাড়ির কক্ষের ড্রামে ৩৮ টুকরা খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হবার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নানা জল্পন-কল্পনার পর হত্যাকান্ডের শিকার সেই নারীর পরিচয় মিলেছে। তাঁর নাম তাসলিমা বেগম বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে জামগড়া এলাকার প্রবাসী মাসুদ মিয়ার ভাড়াবাসার একটি ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত তাসলিমা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নৈহাটি বড়পাতা গ্রামের তক্কেল মন্ডলের মেয়ে। তিনি আশুলিয়ার হামীম গ্রুপের ‘নেক্সট কালেকশন’ নামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গতকাল শনিবার ঝিনাইদহ থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম মো. মুকুল। তিনিও ঝিনাইদহ সদর এলাকার বাসিন্দা।

আশুলিয়া থানার এসআই মলয় কুমার সাহা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করেন মুকুল। শনিবার বিকেলেই ঝিনাইদহ থেকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মুকুলের আশুলিয়ায় থানায় আনা হয়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আউয়াল জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি বাড়ির কক্ষের ড্রামে খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারপর পুলিশ ওই নারীর পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করে।

আবদুল আউয়াল আরো জানান, হত্যাকাণ্ডটি জটিল। নিহত তাসলিমার স্বামীসহ একাধিক ব্যক্তি এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মূল আসামীকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যাকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এলাকাবাসী জানান, মাসুদ মিয়ার ভাড়াবাসার একটি কক্ষ দুই দিন ধরে বন্ধ ছিলো । ঘটনার দিন রাতে সে কক্ষ থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। এ সময় তারা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙে একটি ড্রামের ভেতর থেকে ওই নারীর ৩৮  টুকরো অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।