সালন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীন নির্মাণে ১৪৪ ধারা জারি

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দর উচ্চ বিদ্যালয়টি মহাসড়কের পার্শ্বে অবস্থিত। কিন্তু বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিপাকে ছাত্র-ছাত্রীরা।

ঠাকুরগাঁও শহর থেকে ৪কি.মি উত্তরে এ স্কুলটি অবস্থিত। বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত সালন্দর ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যাপীঠ গুলোর মধ্যে উন্নতম সেরা বিদ্যাপীঠ সালন্দর উচ্চ বিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে অনেক বড় খেলার মাঠ। যে মাঠে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন খেলাধুলার চর্চা করে অর্জন করেছে জেলা-বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব।

জানা যায়, এই স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী ভরপুর আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে এখানে ছেলে-মেয়রা পড়াশুনা করতে আসে। এবং ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এই স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করানো হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্কুলের সুরক্ষার জন্য সীমানা প্রাচীরের প্রয়োজন হলেও তা নেই। তবে স্কুল কতৃপক্ষ প্রাচীর নিমার্ণ করতে গিয়ে পড়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের তোপের মুখে। শুধু তাই নয় সীমানা প্রাচীর নিয়ে আদালতে মামলা করেন স্থানীয় জায়গা দানকারীর উত্তর সরিরা। তাই আদালত সীমানা প্রাচীর নিমার্ণের উপরে ১৪৪ ধারা জারি করে কাজ বন্ধ করে দেয়ায় অর্ধেক প্রাচীর করেই থেমে গেছে নির্মানের কাজ।

উত্তরসরিদের ব্যক্তিগত কারণে এই সীমানা প্রাচীরের কাজ বছরের পর বছর বন্ধ হয়ে আছে বলে জানা যায়। এর কোন সুরহা না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা এবং শিক্ষকবৃন্দ।

ছাত্র-ছাত্রীরা অভিযোগ করে বলে এই স্কুলে আমাদের সাইকেল রাখার কোন ব্যবস্থা নেই (থাকলেও সেটা স্কুলের সামনে মাঠের মধ্যে)। আমরা বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চল থেকে সাইকেল চালিয়ে পড়াশুনা করতে ছুটে আসি। কিন্তু আমাদের সাইকেল রাখার গ্যারেজ নেই, স্কুলের সামনে মাঠের এক কোণে সাইকেল রাখা করা হয়। এবং স্যারদের মটর বাইক গ্যারেজ করারও কোন ব্যবস্থা নেই যে যেভাবে পারে গাছ তলায় এবং স্কুলের বারান্দায় মটর বাইক গ্যারেজ করে রাখে। এবং নেই কোন বড় ধরনের শহীদ মিনার আছে একটি ছোট শহিদ মিনার এখানেই একুশে ফেব্রুয়ারিতে সালন্দর ইউনিয়ন থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সর্ব স্ততরের মানুষ শ্রদ্ধা জানতে আসে। এখানে দ্রুত একটি উন্নতমানের বড় শহীদ মিনার নির্মাণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তি বর্গরা জানান, একটা স্কুলের প্রাচীর হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা রয়েছে যেমন বহিরাগতরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না, কোন হট্টগোল সৃষ্টি হবে না, মাদক সেবিদের আড্ডা জমবে না, এবং স্কুল মাঠে কেউ গরু-ছাগল বাধতে পারবে না। এতে করে স্কুলের পরিবেশ এবং স্কুলের চারপাশের পরিবেশ সুরক্ষিত হবে।

এ ব্যাপারে সালন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ইতি পূর্বে সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু হলে পরবর্তীতে তা আদালত থেকে নিষেধ আজ্ঞা ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় প্রাচীর নিমার্ণের কাজ বন্ধ হয়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এর শুনানী হবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম মুকুলের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, সীমানার প্রাচীরটি অতি জরুরী। কারণ স্কুলের মাঠের সীমানা প্রাচীর না থাকায় সন্ধ্যা হলেই মাঠের ভিতর বসে বখাটে ছেলেদের আড্ডা। ক্লাস চলাকালীন সময় স্কুল মাঠে গরু ছাগল বাধায় ছাত্র-ছাত্রীদের নানা সমস্যা পোহাতে হয়।

স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিবাবকরা স্থানীয় প্রশাসন এবং স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নিকট অনুরোধ করে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব স্কুলের প্রাচীর নির্মাণ কাজ নিয়ে যে সংকট দেখা দিয়েছে তা যাতে খুব শিঘ্রই সকলের মতামত নিয়ে এবং সুষ্ঠ ভাবে সমাধান করা হয়।