দৃশ্যপট: সদর উপজেলা প.প.দপ্তর ৯-৪৫ মিনিটে অফিস ঝাড়ু চলছে

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে এই প্রতিনিধির সদর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা অফিসে উপস্থিত। অফিসের কর্মকর্তা মোদাব্বের এর কামরায় আলো জ্বলছে, ফ্যান চলছে, চেয়ার শুন্য। পাশে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারীদের কামড়ায় ঝাড়ু দেয়া চলছে।

এম.এল.এস.এস (অফিস সহায়ক) রজব আলী বাড়ান্দায় দাড়িয়ে। ঝারুদার মেয়েটি বললেন, একটু আগে অফিসের তালা খুলে দিয়েছে, তাই ঝারু দিচ্ছি। অফিস সহায়ক রজব আলীকে অফিস কর্মকর্তার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে সে জানায়, স্যার আসেননি । তবে আর ডি আর এস হয়ে অফিসে আসবেন।
এসময় সদর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা দপ্তর কর্মরত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হিরেশ্বর সিংহ, চন্দনা রানী, বিনা আক্তার কেহই অফিসে উপস্থিত নেই।

অথচ সরকারী বিধান হচ্ছে, সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত হয়ে ৪৫ মিনিট অফিসে অপেক্ষা করার পর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অফিসের বাহিরে পরিদর্শন,তদন্ত ও মিটিং এ যেতে পারবেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত কেউ অফিসে আসেন নি।

এই প্রতিনিধি তার অফিসে এসে, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে মোবাইলে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তর সকাল ৯টা থেকে সকার ১০ পর্যন্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অনুপস্থিতির বিষয়ে অবহিত করা হয়। এদিকে সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোদাব্বেরের মোবাইল নম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাহিরে ছিলাম। সকাল ৯টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত সরকারী দপ্তর কর্মকর্তা কর্মচারীর অনুপস্থিতি অনৈতিক কি না জানতে চাই তিনি জানান, বিষয়টি দেখবেন। অথচ তিনি নিজেই অনুপস্থিত।

এ ব্যপারে সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ.কে.এম মমিনুল হক কে জানানো হলে তিনি জানান, অনেক কর্মকর্তাই ইউনিয়ন পর্যায়ে তদন্ত, পরিদর্শন কিংবা মিটিং এ যান। তাই তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা কিংবা অনুপস্থিত বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব হয় না। এই প্রতিনিধি তাকে জনপ্রসাশন মন্ত্রনালয়ের পরিপত্র বিষয়ে অবহিত করেন। উক্ত পরিপত্রে বলা হয়েছে, সকাল ৯টায় সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত হবেন। অফিসে ৪৫ মিনিট অপেক্ষার পর বাহিরে যেতে পারবেন। ৯টায় তাদের হাজিরা বাধ্যতামূলক।

সংবিধান ও সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী চাকুরী বিধি লংঘন করে যুগের পর যুগ ধরে এরুপ অব্যবস্থা ও সেচ্ছাচারিতা চলছে। কোন অবস্থাতে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। কারন জনগনের চেতনায় স্তর অত্যন্ত নিম্নে। সেবা নিতে আসা অধিকাংশ জনগনেই সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের কে প্রভু মনে করেন ও তাদের দয়া-দাক্ষিনা যাঞ্চা করেন। অথচ জনগনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ট্যাস্কের টাকায় সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন।

দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদেরকে নিয়ে ব্যস্ত। সুধী সমাজের অধিকাংশই ব্যক্তি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সেবাদাস, কেউবা আত্মকেন্দ্রীক। উদ্ধর্তন কতৃপক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সেবাদাস। তারা অনেকটাই দলীয় ভৃত্ব্যে পরিনত হয়ে আত্ম প্রতিষ্ঠায় নিমগ্ন। অথাৎ গোয়ালে ধোয়া দেয়ার কেউ নেই।

বাংলাদেশের সংবিধানে দ্বিতীয় ভাগ রাষ্ট্র পরিচালনার মুলনীতির ২১ অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য : লেখা রয়েছে, ২১ (১) সংবিধান ও আইন গন্যকরা, শৃংখলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা, প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। ২১ (২) সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য ।

লালমনিরহাট জেলার উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অধিকাংশ সরকারী দপ্তরের সরকারী নির্ধারিত সময়সুচি মোতাবেক সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।