ফুলবাড়ীতে ইউএনওর হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী

অনীল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি: বর দুই সন্তানের জনক। বাল্য বিয়েতে রাজি নয় সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুন। মেয়ের মনের অবস্থা বুঝে মেয়ের পাশে দাড়ান তার মা। কিন্তু পিতা আজিজুর রহমান ও ফুফু মিনা বেগম কোনও ভাবেই বিয়ে থামাতে রাজি নন।

গত শুক্রবার রাতেই বর পক্ষও হাজির। কোনও উপায়ন্তর না পেয়ে মেয়েকে নিয়ে মা পালিয়ে যান বাবার বাড়িতে। নাছোরবান্দা পিতা তাতেও ক্ষান্ত হননি। শেষে আজ শনিবার আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে আবারও বাল্যবিয়ের পিড়িতে বসতে বাধ্য করেন শিশু কন্যা জান্নাতি খাতুনকে। এ সময় বাধ সাধেন জান্নাতির বাড়ীর পাশে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মোমেনা বেগম ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারত চন্দ্র রায় ও পরে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁওকে খবর দিলে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বর পক্ষকে বিদায় করে দেন।

শনিবার সকালে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুটি চন্দ্রখানা গ্রামে এ ভাবেই বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পান জান্নাতি খাতুন নামে সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী। সে একই ইউনিয়নের একতা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজ উদ্যোগে বন্ধ করেন এ বাল্য বিয়ে। সামাজিক এ অভিশাপ থেকে রক্ষা পায় জান্নাতি খাতুন।

জান্নাতি খাতুন জানান, শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের রৌশন শিমুলবাড়ি গ্রামের আবুল হোসেন দুই সন্তানের জনক আব্দুল মালেক (৩৭) এর সাথে তার বিয়ে ঠিক করে তার বাবা ও ফুফু। কিন্তু সে এ বিয়েতে মত দেয়নি। কিন্তু তার বাবা আজিজুর রহমান আত্মহত্যা করার ভয় দেখিয়ে জোর করে তার বিয়ে দিচ্ছিলেন।

জান্নাতি আরও বলেন, আমি পড়াশুনা করতে চাই। এত অল্প বয়সে বিয়ে করে কারও বোঝা হতে চাই না। আমি উপজেলা নির্বহিী অফিসার স্যার, আমার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মহিলা সদস্যকে কৃতজ্ঞতা জানাই যে তারা সময় মত উপস্থিত হয়ে বিয়ের কাজ বন্ধ করেছেন।

ইউএনও দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, খবর পাওয়া মাত্র স্থানীয় মহিলা সদস্য এবং ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে যাই এবং মেয়ের বাবাকে বিয়ে বন্ধ করার অনুরোধ জানাই। পরে উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।