ফেসবুকে‌র এক স্ট্যাটাসেই বন্ধ হলো ভুয়া অডিট!

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

আইন মন্ত্রনালয়ের অডিট হওয়ার কথা বলে লালমনিরহাটের প্রত্যেক নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) অফিসে পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাট জেলা রেজিষ্ট্রারের বিরুদ্ধে। আর এনিয়ে চাপাইনবাবগঞ্জের এক কাজী তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে তা বন্ধ হয়ে যায়।

জেলা নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) সমিতির সম্পাদক কাজী ফয়সাল আহমেদ জেলায় কর্মরত প্রত্যেক কাজীকে মোবাইল ফোনে বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক অডিট ও নির্ধারিত চাঁদার বিষয়টি জেলা রেজিষ্ট্রারের নির্দেশ মোতাবেক জানিয়ে দেন।

মন্ত্রণালয় ও জেলা রেজিষ্ট্রার কার্যালয় থেকে কোনো প্রকার পত্র প্রদান না করেই অডিটে‌র বিষয় নিয়ে নিকাহ রেজিষ্ট্রারদের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ফলে কয়েকজন নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের অবগত করেন। কেন্দ্রীয় নেতারা মন্ত্রনালয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, অডিটের বিষয়টি সম্পূর্ণরুপে ভুয়া ও ভিত্তিহীন।

পরে কেন্দ্রীয় নিকাহ রেজিষ্ট্রার সমিতির নেতা ও চাপাইনবাবগঞ্জ কাজী সমি‌তির সম্পাদক কাজী আব্দুল বারী বুধবার দিবাগত রাতে ফেসবুকে ‘আইন মন্ত্রনালয়ের ভূয়া অডিট ও লালমনিরহাট জেলা রেজিষ্ট্রারের চাদাবাজি’র বিরুদ্ধে তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ফলে নিকাহ রেজিষ্ট্রারদের মাঝে বিষয়টি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

আর এদিকে ঐ কাজীর ফেসবুকের স্ট্যাটাসের কয়েক ঘন্টা পরেই লালমনিরহাট কাজী সমি‌তি’র সম্পাদক কাজী ফয়সাল আহমেদ জেলার সকল কাজীদের ফোন করে অডিটের বিষয়টি অনিবার্য কারণ বশতঃ জেলা রেজিষ্ট্রার লালমনিরহাট স্থগিত করেছেন বলে জানিয়ে দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নিকাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) জানান, লালমনিরহাট কাজী সমিতির সম্পাদক ফয়সাল আহমদের মাধ্যমে জেলা রেজিষ্ট্রার ও তার কার্যালয়ের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মনিরুজ্জামান সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। কোনো নিকাহ রেজিষ্ট্রার কাজী ফয়সাল ও জেলা রেজিষ্ট্রারের এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে সেই কাজীর লাইসেন্স বাতিল, শোকজ ও বাল্য বিবাহ নিবন্ধনে অভিযুক্ত করার মত খড়গ চাপিয়ে দেয়া হয়।

লালমনিরহাট নিকাহ রেজিষ্ট্রার সমিতি’র সম্পাদক কাজী ফয়সাল আহমদ জানান, বৃহস্পতিবার মন্ত্রনালয় কর্তৃক অডিটের নির্ধারিত তারিখ ছিল কিন্তু জেলা রেজিষ্ট্রার লালমনিরহাট এর নির্দেশ মোতাবেক তা অনিবার্য কারণ বশতঃ স্থগিত করা হয়েছে। তবে চাদাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা কৌশলে এড়িয়ে যান এবং বলেন যারা নির্বাচনে হেরে গেছেন তারাই এ মিথ্যা কথা গুলো ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবি করেন।

এবিষয়ে লালমনিরহাট জেলা রেজিষ্ট্রা‌রের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি!