পওলিনহোর গোলে বার্সার রক্ষা

স্পোর্টস ডেস্কঃ

আগের দুই ম্যাচে মাঠ কাঁপিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। এস্পানিওলের বিপক্ষে করেছিলেন হ্যাটট্রিক। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জুভেন্তাসের বিপক্ষে করেছিলেন জোড়া গোল। এবার তিনি গোল করতে না পারলেও, শেষ মুহূর্তে পওলিনহোর যে গোলে রক্ষা পেলো বার্সা, সেটি বানিয়ে দিয়েছিলেন মেসিই। পওলিনহো ছিলেন শুধুমাত্র ফিনিশার। এই জয়ে চার ম্যাচ থেকে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে বার্সাই রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। ৩ ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট মাত্র ৫। তারা রয়েছে ১১তম স্থানে।

ঘরের মাঠে আগের দুই ম্যাচেই এস্পানিওল এবং জুভেন্তাসকে বিধ্বস্ত করেছিল বার্সেলোনা। এবার অ্যাওয়ে ম্যাচে গিয়ে হোঁচট খেতে খেতে অল্পের জন্য রক্ষা পেলো স্প্যানিশ জায়ান্টরা। কলোসিয়াম আলফনসো পেরেজে গিয়ে স্বাগতিক গেটাফেকে ২-১ গোলে হারিয়ে এসেছে বার্সা। শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার পওলিনহোর গোলে কোনমতে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফিরেছে লিওনেল মেসি অ্যান্ড কোং।

বার্সার জন্য দুঃখ হয়ে দেখা দেয় ওসমান ডেমবেলের ইনজুরি। খেলার ২৯ মিনিটেই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে হয়েছে নেইমারের পরিবর্তে কেনা এই ফরাসি ফুটবারকে। এরপর ৩৯ মিনিটেই ধারার বিপরীতে গোল হজম করে বসে বার্সা। মার্কেল বারগারা হেড পাসে বল এগিয়ে দেন গাকু শিবাশাকিকে। বাম পায়ের দুর্দান্ত শটে বার্সার জাল কাঁপিয়ে দেন তিনি।

প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিটে গোলের ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলতে পারতো গেটাফে। ফেইকাল ফাজরের ডান পায়ের শটটি বার্সার পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে এর খানিক পরই দারুণ একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। কিন্তু তার নেয়া ফ্রি কিকের দারুণ শটটি ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক ভিসেন্তে গুয়াইতা।

গোল হজম করার পর বার্সা যেন আরও মরিয়া। সেই গোল পরিশোধ করে জয়ের রাস্তায় আসতে হবে। এ লক্ষ্যে আক্রমণ আর প্রতি আক্রমণে ব্যস্ত করে তোলে গেটাফের রক্ষণভাগ। ৫৬ মিনিটেই ফিরতে পারতো সমতায়। জেরার্ড পিকের কাছ থেকে বল পেয়ে দুর থেকে লম্বা শট নেন সার্জিও রবার্তো। কিন্তু তার শট ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক।

তবে আক্রমণের ধারাবহিকতায় ৬২ মিনিটে এসে গোলের দেখা মেলে বার্সার। ৪৫ মিনিটে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পরিবর্তে মাঠে নামা ডেনিস সুয়ারেজ গোল করেন বার্সার হয়ে। সার্জি রবার্তোর কাছ থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের শট নেন ডেনিস সুয়ারেজ।

১-১ সমতায় আসার পর বার্সার চিন্তায় অন্তত আরও একটি গোল। কিন্তু সেটি যেন আসবেই না। অবশেষে খেলার ৮৪তম মিনিটে গিয়ে বার্সার ত্রাণকর্তার ভুমিকায় আসেন পওলিনহো। মেসির পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একজন ডিফেন্ডারকে ডস দেন তিনি। এরপর ডান পায়ের শটে বল জড়ান গেটাফের জালে। বার্সার জার্সি গায়ে এই ব্রাজিলিয়ানের এটা প্রথম গোল। খানিক পরই মেসি ব্যবধান আরও বাড়াতে পারতেন। কিন্তু, তার নিখুঁত শটটি চলে গেলো গেটাফের গোল পোস্টের ওপর দিয়ে।