রাজশাহী হিমাগারে রক্ষিত আলুতেই ১৩৬ কোটি টাকা লোকসানের আশংকা

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি: এ বছর আলুর ব্যাপক উৎপাদনই কৃষক ব্যবসায়ীদের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনাকে দুষছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

আলু নিয়ে প্রতি বছরই এমন বিড়ম্বনায় পড়ছেন আলু ব্যবসায়ী ও কৃষক। প্রতিনিয়ত আলুর দাম নিম্নমুখি। উৎপাদন খরচের চেয়ে প্রতিবস্তায় ৪০০ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে রাজশাহী কৃষকদের। হীমাগারে আলু মজুদে লাভের আশা করতে গিয়ে বিপাকে আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী আলু উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় জেলার ২৬টি হিমাগারে আলু মজুদ করেছেন। বর্তমান বাজারে প্রতিবস্তায় প্রায় ৪০০ টাকা করে লোকসান গুণতে হচ্ছে। সেই হিসেবে শুধু হিমাগারে রক্ষিত আলুতেই ১৩৬ কোটি টাকা লোকসানের আশংকা।

মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিনি এবারে ৫ বিঘা (১ হেক্টও – প্রাায় সাড়ে সাত বিঘা) জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বাজারে প্রতিবস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে ১০২০-১০৮০ টাকা। এতে করে প্রতি বস্তায় প্রায় ৪০০ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। তার মত হাজার হাজার চাষির অবস্থা একই।

এদিকে চাষি ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বিড়ম্বনায় পড়েছেন হিমাগার কর্তৃপক্ষ। কোটি কোটি টাকা ঋণ দিয়েছেন চাষিদের। কিন্তু বার বার তাগিদ দিয়েও আলু বিক্রিতে সাড়া পাচ্ছেন না হিমাগার মালিকেরা। অথচ এখনো প্রায় ২৬ লাখ বস্তা আলু জেলার বিভিন্ন হিমাগারে মজুত আছে। আলুর দরপতন হচ্ছে প্রতিদিনই। ফলে আলু সংশ্লিষ্টদের সোনালী স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে।

জেলার এক হিমাগারের ব্যবস্থাপক বলেন, গতবারের চেয়ে এবারে আলুর সার্বিক দিক আরো ভয়াবহ। তিনি জানান, তার হিমাগারটি এক লাখ ৭২ হাজার বস্তা ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। যার মধ্যে শুধুমাত্র ৫৩ হাজার বস্তা আলু বের হয়েছে। গতবারের এ সময়ের চেয়ে প্রায় ২২ হাজার বস্তা কম। আলুর দাম দিনে দিনে কমতির দিকে।

এ অবস্থায় আলু চাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়েছে। হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি আবু বাক্কার জানান, হিমাগারে আলু রাখার শর্তে এবার কৃষক-ব্যবসায়ীদের বিপুল অঙ্কের টাকা ঋণ দেওয়া আছে। কিন্তু বাজার মন্দার কারণে কৃষক-ব্যবসায়ীরা আলু তুলতে হিমাগারে আসছেন না। এ অবস্থায় হিমাগার ভাড়ার পাশাপাশি ঋণ আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, কৃষি বিভাগ ফসলের উৎপাদন ও কৃষকদের বিভিন্ন লাভজনক ফসলে উৎসাহিত করে থাকে। কোন ফসলের দাম কম-বৃদ্ধি দেখ ভাল করে বাজার ব্যবস্থাপনা বিভাগ। বর্তমানে সত্যিই অন্যান্য সবজির তুলনায় আলুর দাম কম। তবে তিনি আলুর দাম বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।