মিমাংসায় ব্যস্ত ইউপি চেয়ারম্যান! হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে নির্যাতনের শিকার চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী!

কামরুল হাসান- ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি,

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুরে ৪র্থ শ্রেণীর শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মানিক (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শিশুটি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নির্যাতনের শিকার  শিশুটি মোহাম্মদপুর ইউপির ১০৭ নং হরিনারায়নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী  । মেধাবী এই শিশুটির রোল নং- ১ বলে জানিয়েছেন শিশুটির বাবা।

এই ঘটনাটি পুরো এলাকায় বেশ আলোচিত হলেও স্থানিয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে অভিযুক্ত মানিকের ‘সু-সম্পর্ক’ থাকার কারনে বিষয়টি ধামাচাপা দেবার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

রোববার রাতে হাসপাতালে শিশুটির পিতা বলেন, রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টার সময় ওই ইউনিয়নের হরিনারায়নপুর হাজিপাড়ার রাজমিস্ত্রি মানিক (৪০) আমার মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার সময় আটক করে। পরে পান নেওয়ার কথা বলে জোরপূর্বক আমার দোকানে ঢুকে নির্যাতন চালায়। পরক্ষণে আমার স্ত্রী মেয়ের চিৎকারে দোকানে এসে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে।

ওই নির্যাতিত শিশুর বাবা অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকে চেয়ারম্যান শুধু মীমাংসার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হতে বারণ করেন। শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আর কোন শিশুর সাথে যেন এমন অপৃত্তিকর ঘটনা না ঘটে। তিনি এ বিষয়ে মানিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ধর্ষণের চেষ্টাকারী মানিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগের কাছে জানতে চাইলে তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরের কাছে ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে এমন অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি বিকেলে শুনেছি। বিষয়টি জানার পরে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলে শহরে চলে আসি। চেয়ারম্যান সোহাগ আরও জানালেন, মিমাংসার মানেই হয় না। আমি সত্যিকারে অপরাধীর কঠোর শাস্তি ও বিচার চাই। এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য অবক্ষয়ের অংশ ও হুমকি স্বরূপ এবং জন্য লজ্জাকর।

সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার সাথী আক্তার জানান, শিশুটি রাত ৮ টার সময় হাসপাতালে আসে। তার মা-বাবার কাছে শুনেছি যৌন হয়রানীর কথা। পরবর্তিতে পরীক্ষা-নিরিক্ষার মাধ্যমে বিস্তারিত জানা যাবে।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হয় সদর থানার ওসি মশিউর রহমানের সাথে তিনি জানান, আসামি ধরার জোর চেস্টা  চলছে।