মাদ্রাসা শিক্ষককে বিয়ে করে জীবন বদলে গেল চিত্রনায়িকা ময়ূরীর

রবিউল ইসলাম (রবি), সময়ের কণ্ঠস্বর- ঢাকাই ছবির সোনালি যুগের অবসানের পর নব্বই দশকের শেষ দিকে চলচ্চিত্রে অশ্লীল ছবির আগ্রাসন শুরু হয়। অশ্লীলতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা হলবিমুখ হতে শুরু করেন। এ সময় ঢালিউডে ঝড় তোলেন সুঠাম দেহের অধিকারী এক নায়িকা, যার নাম ময়ূরী।

চলচ্চিত্রে আগমনের পরই আলোচিত হন ময়ূরী। তখন এ অভিনেত্রী স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বেশকিছু অশ্লীল ছবিতে দেখা যায়। এরপর প্রায় ১০ বছর দাপিয়ে অভিনয় করেন ময়ূরী। ২০০৫ সালের পর চলচ্চিত্র সুস্থ ধারায় ফিরলে অনেকটাই অন্তরালে চলে যান তিনি।

ময়ূরী এখন চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন। এফডিসিতেও নেই তার যাতায়াত। চ্যানেলগুলোর কোনো শোতেও দেখা মেলে না তাকে। তবে সম্প্রতি পাওয়া গেল নতুন খবর। ফের বিয়ের পিড়িতে বসেছেন এ অভিনেত্রী। আর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করলেন এই নায়িকা।

জানা গেছে, চলতি বছরের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বিয়ে করেন। তার স্বামীর নাম মোহাম্মদ জুয়েল আহমেদ। যিনি পেশায় একজন মাদরাসার শিক্ষক। গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় পাঠদান করান।

এ নায়িকার একজন ঘনিষ্ট আত্মীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়ূরীর দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় মাস তিনেক আগে। এরপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যায়ের ছাত্র মোহাম্মদ জুয়েলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের দেড় মাসের মধ্যে জুয়েলকে বিয়ে করেন ময়ূরী। টঙ্গীতে নতুন স্বামীর সঙ্গে সুখেই দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

জানা যায়, জুয়েল নিজে ধার্মিক। তাকে বিয়ে করার পর থেকেই ময়ূরীও ধার্মিক জীবন যাপন করছেন। এখন সব ধরনের মিডিয়া কিংবা বিনোদন সংক্রান্ত বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন এ নায়িকা। সঙ্গে রয়েছে ময়ূরীর আগের তরফের একমাত্র কন্যা অ্যাঞ্জেল।

এর আগে ময়ূরীর প্রথম স্বামী রেজাউল করিম খান মিলন ছিলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি মারা যান ২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। এরপর ময়ূরী দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করেন শ্রাবণ শাহ নামের এক চলচ্চিত্র অভিনেতাকে। কিন্তু সেই সংসারও টেকেনি। এবার শুরু করেছেন নতুন সংসার।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে ‘মৃত্যুর মুখে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে আগমন ঘটে ময়ূরীর। জানা যায়, তার অভিনীত তিন শতাধিক ছবি মুক্তি পেয়েছে। এ নায়িকার সবশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘বাংলা ভাই’।

আরআই