গফরগাঁওয়ে সাবেক এমপিকে হত্যার হুমকি

আব্দুল মান্নান পল্টন, ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান– ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনের জাতীয় পার্টির দুইবারের সাবেক এমপি এনামুল হক জজ মিয়াকে বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আফাজ উদ্দিন ও তার চার ছেলে ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা এ হুমকি দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে সাবেক এমপি এনামুল হক জজ মিয়া জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত শনিবার রাত পোনে ৯টায় গফরগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছে গফরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষ।

থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরী সুত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গফরগাঁও বাজার থেকে বাড়ি ফিরার পথে আলতাফ গোলন্দাজ ডিগ্রি কলেজের সামনে সুইধ্যা আফাজের নেতৃত্বে তার চার ছেলে রনি, জনি, রাজা, বাদশাসহ তাদের ভাড়া কারা আরও ৩জন সন্ত্রাসী সাবেক এমপি জজ মিয়াকে জীবনে মেরে ফেলার হত্যা হুমকি প্রদান করে।

সাবেক এমপি এনামুল হক জজ মিয়া এ প্রতিবেদককে জানান, গত ৮ বছর পুর্বে ভুয়া দলিল দেখিয়ে জমি বিক্রি করার কথা বলে বায়নানামা বাবদ সুইধ্যা আফাজ ৮ লক্ষ টাকা নেয়। পরে জানতে পারি সুইধ্যা আফাজের দলিল ও জমি সবই ভুয়া। সেই থেকে আজ অবধি দীর্ঘ ৮ বছর যাবত টাকাগুলি ফেরৎ চেয়ে আসছি।

দেই দিচ্ছি বলে ৮ বছর পার করেছে। সম্প্রতি সমিতির নামে শতাধিক মানুষের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে আফাজ। এ ঘটনায় আফাজের বিরুদ্ধে গফরগাঁও থানায় একটি মামলা করেছে পাওনাদাররা। আমি তাদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম বলে আফাজ আমার বোকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছে টাকা পাওয়ার বিষয়ে কারও সাথে যোগাযোগ করলে বা মামলা মোকাদ্দমা করলে আমাকে আমার বসত বাড়িতে প্রবেশ করে গুলি করে মারবে। মনে হয়েছিল আফাজ আমাকে মেরে ফেলবে, কিন্তু আমার আত্নচিৎকারে আশ পাশের লোকজন চলে আসায় আমাকে জীবনে মারতে পারেনি।

এক সময় আমি গফরগাঁওয়ের ২বার এমপি ছিলাম। জীবনের শেষ লগ্নে এসে আজ আমি বড় অসহায়। আফাজের মত আরো অনেকেই আমাকে ব্লেকমেইল করেছে। আমার সব টাকা পয়সা আত্মসাৎ করেছে। আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই আমার জায়গা জমিও দখর করেছে। আমি খুব অসুস্থ চিকিৎসা করার মত টাকা আমার কাছে নেই। আমি অধৃাহারে অনাহারে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি। আমি আমার টাকা ফেরৎ পাওয়াসহ আফাজের যথাযথ বিচার দাবী করছি।

আফাজের নিজ বাড়ি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে আর সেই ৪নং ওয়ার্ডের কমিশনার সোহরাব মিয়া বলেন, সাবেক এমািপ জজ মিয়া আফাজকে ও তার ছেলেকে টাকা দেয়ার সময় আমি সামনে ছিলাম। এমপি সাহেবকে টাকাগুলি ফিরিয়ে দিতে আমিও আফাজকে বেশ কয়েকবার বলেছি।

গফরগাঁও থানার ওসি তদন্ত তারিকুজ্জামান জানান, একটি সমিতির শতাধিক মানুষ গফরগাঁও থানায় আফাজের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে আফাজের বিরুদ্ধে ২সপ্তাহ পুর্বে গফরগাঁও থানায় একটি মালাও রুজু হয়েছে।

গফরগাঁও উপজেলা শ্রমীকলীগ নেতা সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, সুইধ্যা আফাজ, ওরফে কিলার আফাজ সমিতির টাকা ছাড়াও শত শত মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছে । আফাজ ও তার পাঁচ ছেলেসহ তার ক্যাডার বাহিনী অস্ত্র নিয়ে পৌরশহরে টহল দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে থাকে। এক সময়ের হোটেলের মেশিয়ার আফাজ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে বর্তমানে সে কোটি কোটি টাকা ও অঢাল সম্পদের মালিক হয়েছেন। আফাজ ও তার ছেলেদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারন মানুষ ভয়ে পৌরশহরের অনেকেই বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে জীবন যাপন করছে।

পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসীন্ধা রুহুল আমীন, রফিকুল ইসলাম, মিল্টন, আলামিন, হাবি, শামিমসহ অনেকেই কাঁদতে কাঁদতে বলেন আফাজ তাদের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে মিথ্যা বানোয়াট মামলা করেছে।

আরআই