রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদকসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদকসহ নানা রকমের অভিয়োগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নাকের ডগার সামনেই ঘটছে ওই সকল কর্মকান্ড।

জেল হাজতে খুব সহজেই মিলছে মাদক। ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাজাসহ নানা রকম পিল। এছাড়া জেল হাসপাতালেও রয়েছে অনিয়ম। প্রকৃত অসুস্থরা থাকেন সাধারণ ওয়ার্ডে। অর্থের বিনিময়ে মেডিকেল বেডে রাজত্ব করেন সাধারণরা এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে ডিআইজি প্রিজন ও সিনিয়র জেল সুপারের পরিদর্শনের দিনে পাল্টে যায় মেডিকেলের দৃশ্যপট। তখন লোক দেখানোর জন্য সত্যিকারের অসুস্থ বন্দীদের হাজির করা হয় মেডিকেলে। শুধু তাই নয় মেডিকেলের ওয়ার্ড ও জরুরী বিভাগ পরিস্কার করাসহ যাবতীয় নতুন নতুন জিনিস লাগিয়ে ঝকঝকে করা হয়। তবে পরিদর্শন শেষ হয়ে গেলে আবার অসুস্থদের পাঠানো হয় সাধারণ ওয়ার্ডে। সদ্য কারাগার থেকে বের হয়ে আসা বন্দীদের থেকে এমন তথ্য প্রকাশ হয়েছে।

কারা সূত্রে জানাযায়, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ বন্দীদের চিকিৎসার জন্য ৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে কোন পরিদর্শক (অর্থাৎ ডিআইজি প্রিজন ও সিনিয়র জেল সুপার) কখানো যান না। যার কারণে সকল অপকর্ম করেন দায়িত্বরত কর্মচারীরা। মেডিকেলে অসুস্থদের ফ্রি চিকিৎসা ও ঔষুধ দেওয়ার নিয়ম হলেও চিত্রপট সম্পূর্ণ আলাদা।

অসুস্থ ছাড়া যারা অসুস্থ মেডিকেলে থাকতে চান তাদের সেখানে থাকতে গুনতে হয় দিন প্রতি ১০০ টাকা। অগ্রিম টাকা পেলেই ফার্মেসী বশির উদ্দিন তার মেডিকেলে থাকার সব বন্দোবস্ত করে দেন। টাকা দিলেই যাবতীয় দায়িত্ব তাদের ঘাড়ে। আর এই টাকা পরিশোধ করা হয় বিকাশে।

মেডিকেলে ভর্তিরপর তারা রোগী হিসেবে বিবেচিত হলেও ৩০ দিনের প্রথম ১২ দিন মেডিকেলের ডায়েট দেওয়া হয়। বাকি ১৮ দিন সাধারণ বন্দীদের ডায়েট দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে রোগীদের যে ১২ দিন ডায়েট দেওয়া হয় তা খুবই নিম্নমানের বলে কারামুক্ত অনেক বন্দী অভিযোগ করে জানিয়েছেন।

এগুলো খাওয়ার অযোগ্য হওয়ার কারণে মেডিকেলে থেকেও খাবার কিনে খেতে হয়। এ নিয়েও মেডিকেলে থাকা বন্দীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এ ছাড়া জেলকোড অনুযায়ী মেডিকেলে থাকা বন্দীদের জন্য ৫ কেজি পাওডারের দুধে ২৫ লিটার পানি মেশানোর কথা থাকলেও মেডিকেলের দায়িত্বরা এক কেজি পাউডারের দুধে ২৫ লিটার পানি দেয়। টাকার বিনিময়ে বন্দীরা রাতে শান্তিতে ঘুমানোর জন্য মেডিকেলে যায়। অন্য কোন সুবিধা দেওয়া হয় না। এবং মেডিকেলে থাকা অবস্থায় যারা জামিন পায় তারা বের হতে না হতেই অন্য বন্দী বেড দখল করে নেয়।

কারামুক্ত বন্দী সূত্রে আরো জানা গেছে, রোগী ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তার তাকে কিছু ঔষুধ লিখে দেয়। ঔষুধগুলো দুটি কাগজে লিখা হয়। প্রকৃত টিকিটে রোগীকে ওষুধ কিনতে দেওয়া হয়। আর অন্যটায় ঔষুধ উত্তোলন করে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলেই অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে মেডিকেলের ডাক্তার ও ফার্মেসী জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এভাবে প্রতিদিন অনেক ঔষুধ চুরি হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় প্রিজন সেলের নাম করেও বাইরে ওষুধ পাচার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মেডিকেলে প্রতিদিন ২০০/২৫০টিরও বেশি সিগারেট উত্তোলন হয় ওষুধের বিনিময়ে। সেখানে সিডিল বিক্রি হয় যার ১ পাতার বিনিময়ে ১ প্যাকেট গোল্ড লিপ সিগারেট বন্দীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়।

কাশির সিরাপের প্রচুর চাহিদা রয়েছে কারাগারের মধ্যে। কাশির একটি সিরাপের মূল্য ৫০০ টাকা। এই কাশির সিরাপের সাথে সিডিল ট্যাবলেট ও পাওয়ার স্পিরিট ড্রিংকস মেশানো হয়। এরপর এক ধরণের নেশাজাতীয় মিশ্রণ তৈরি করে আরো সবাই মিলে মিশে সেবন করে।

মেডিকেলের ফার্মেসী বশির উদ্দীন বলেন, জেল হাসপাতালে কোন দুর্নীতি হয় না। যা হয় তা সবাই জানে। এটা লুকানোর কিছু নেই।

মেডিকেলের চিকিৎসক সায়েম বলেন, ঔষুধ চুরির ব্যাপারে তার সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি চিকিৎসক তার কাজ চিকিৎসা দেওয়া।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত নয় তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরআই