পর্নোগ্রাফির অভিযোগ নিয়ে কি বললেন অভিনেত্রী কুসুম সিকদার?

বিনোদন প্রতিবেদক- গত ৩ আগস্ট ‘বঙ্গ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ইউটিউব চ্যানেল ‘বঙ্গবিডি’ থেকে বাংলাদেশে জনপ্রিয় অভিনেত্রী কুসুম শিকদারের ‘নেশা’ শিরোনামে একটি মিউজিক ভিডিও মুক্তি পায়।

মুক্তির পর থেকে ভিডিওতে কুসুম শিকদারের খোলামেলা ও আবেদনময়ী উপস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে জোর সমালোচনা শুরু হয়। পরে ১৩ আগস্ট গানটির সব বৈধ-অবৈধ ভিডিও ও টিজার ইউটিউব থেকে সরানোর জন্য আইনজীবী আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী রাগিব আইনি নোটিশ দেন।

তারপরও গানটি না সরানোয় এর বিরুদ্ধে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮ ধারায় কুসুম শিকদারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার নাজমুল আহসান। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে একই দিন রমনা থানাকে অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে কুসুম সিকদার বলেন, গানটিতে কোন শয্যাদৃশ্য কিংবা চুম্বনের দৃশ্য নেই। তবে মিউজিক ভিডিওতে সুইমিং পুলের দৃশ্য কিংবা কয়েকটি স্বাভাবিক অন্তরঙ্গ দৃশ্য থাকলেও সেগুলোকে অশ্লীল অথবা বেআইনি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আইন মেনেই গানের দৃশ্যায়ন বা শ্যুট করা হয়েছে, এবং নিয়ম মেনেই সেটি ইউটিউবের বঙ্গবিডি নামক চ্যানেলে প্রচার করা হয়েছে। ‘এটি একটি মিথ্যে মামলা। মিথ্যে অভিযোগের জন্য আমরা ক্ষতিপূরণ চাইব।’ মামলা বিষয়ে তিনি এখনো আদালতের কোন নোটিশ পাননি। গণমাধ্যমে দেখে জেনেছেন।

কুসুম সিকদার আরও বলেন, এর আগে লিগ্যাল নোটিশ পেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জবাব দিয়েছিলাম, এখন যেহেতু মামলা হয়ে গেছে সেহেতু আমরা আইন অনুযায়ী এগোব।’

মামলার বাদী আইনজীবী খন্দকার নাজমুল আহসান বলেন, মিউজিক ভিডিওটিতে অপ্রাসঙ্গিক এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে রগরগে দৃশ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের অশ্লীল ভিডিও তৈরি এবং প্রকাশনা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে মামলার পর রবিবার রাতে ‘নেশা’ গানের ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেছিল ইউটিউব চ্যানেল বঙ্গবিডি। তবে তারা সোমবার বিকাল তিনটার দিকে আবার সেটি লাইভ করে।

এ ব্যাপারে বঙ্গবিডির কর্মকর্তা আবদুল্লাহ জহির বাবু বলেন, ‘ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল ব্যাপারটি তা না। আমরা ভিডিওটি ইউটিউব থেকে হাইড করে দিয়েছিলাম। পরে আইনজীবীর পরামর্শে আবার পাবলিক করে দিয়েছি।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি