রোহিঙ্গা মুসলিমদের দুর্দশাসহ একাধিক এজেন্ডা নিয়ে জাতিসংঘ সম্মেলনে এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে শনিবার নিউইয়র্কের উদ্দেশ্য ইস্তাম্বুল ছাড়েন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার (কেআরজি) গঠনের উদ্দেশ্য আসন্ন গণভোটের পরিকল্পনা এবং মায়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ একাধিক বিষয়ে ব্যস্ত সময় কাটাবেন তিনি।

এছাড়াও অধিবেশনের সাইড লাইন থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

ইস্তাম্বুল ত্যাগের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এরদোগান জানান, আগামীকাল সাধারণ অধিবেশনে তার বক্তৃতায় তিনি সিরিয়া ও ইরাক সঙ্কট, চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অপারেশনসহ তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে- এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন।

এছাড়াও মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের দুর্দশার বিষয়ে ইউএন সম্মেলনে একটি গ্রুপ মিটিং অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এই গ্রুপ বৈঠকটি মায়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের মানবিক দুর্দশার বিষয়টি আন্তর্জাতিক এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।’

‘মানুষ উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা: শান্তির জন্য সংগ্রাম এবং একটি টেকসই গ্রহে সকলের জন্য সুন্দর জীবন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামীকাল শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন।

শীর্ষ সম্মেলনে আগত একাধিক বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট এরদোগান অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের মধ্য উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ফ্রান্সের প্রেসিপেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন, জাতিসংঘের মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেস, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ, মোলদোভার প্রধানমন্ত্রী পাভেল ফিলিপ এবং আলবেনিয়া প্রধানমন্ত্রীর এডি রামা। পাশাপাশি তিনি মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

এছাড়াও, তুরস্ক, ফ্রান্স ও ইতালির নেতাদের নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকও আয়োজন করা হয়েছে। এই বৈঠকে তারা ইউ’তে তুরস্কের যোগদানের বিষয়সহ অভিবাসী এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ের প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্বপূর্ন বলে এরদোগান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বিশেষ মনোযোগ দিব। এই বৈঠক আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’