শুল্ক কমলেও ইতিবাচক প্রভাব দৃশমান নেই, চাউল ও সবজির আকাশ ছোয়া মূল্য

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে চাউল ও সবজির দাম ক্রমাগত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের দীর্ঘশ্বাস। কিন্তু চালের দাম কমার কোন শঙ্কা নেই।

প্রকার ভেদে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা। অথচ ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, শুল্ক কমলে চালের দামও কমবে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ চাল ব্যবসায়ীরা মজুদদারি করে ইচ্ছা করেই দাম বাড়াচ্ছেন।  বছরে চালের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টন। এর মধ্যে বোরো মৌসুমে ১ কোটি ৯০ লাখ টন চাল উৎপাদিত হয় কিন্তু এবার হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বোরোর উৎপাদন কম হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গতবার বোরোতে চালের উৎপাদন ২০ লাখ টন কম হয়েছে। চালের আমদানি বাড়াতে গত ২০ জুন চাল আমদানিতে শুল্কহার ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করে কিন্তু এরপরও বাজারে তেমন প্রভাব না পড়ায় গত ১৭ আগস্ট আমদানি শুল্ক আবার কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়।

এ জন্য সরকার সারা দেশেই মজুদদারির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের। ইতিমধ্যেই সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন মিল মালিক মজুদদারদের জরিমানা করা হচ্ছে। এবং খোলা বাজারে চাল বিক্রিও শুরু হয়েছে। সরকার গত এক মাসের ব্যবধানে চালে আমদানি শুল্ক ২৬ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। অথচ এর ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান নেই বাজারে।

অপরদিকে সবজি ব্যবসায়ীরাও চালের দামের সাথে বাড়াচ্ছে সবজির দাম। সাহেব বাজারসহ দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা এবং ভারতীয় রসুনের দাম ২০০ টাকা। করলা প্রতি কেজি ৬০-৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, পটল ৩৫-৪০ টাকা, কচুরমুখী ২০, ঝিঙ্গা ২৫, পেঁপে ২০ টাকা, বরবটি ২০ টাকা, কাকরল ৩০ টাকা, কচুর লতি ২০ টাকা, চাল কুমড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা, চিচিংগা ২০ টাকা, মিষ্টি মড়া ৩০ টাকা, পেয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা এবং বিদেশি ৩০ টাকায়। কাঁচা মরিচ ১০০ টাকায়। আলুর দাম ২০-৩০ টাকা কেজি দরে। সবজি ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি মূল্য বেশি বিধায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।