নরসিংদী রায়পুরায় আবারো শুরু হয়েছে ভাঙন, ‘দেড়শ’ ভিটেবাড়ি মেঘনায় বিলীন

মো. হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার: নরসিংদী রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চলের চানপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে আবারো ভাঙন শুরু হয়েছে। গত সোমবার রাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেড় শতাধিক ভিটে বাড়ি মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। সাথে সাথে অথৈ পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, তৈজসপত্র, আসবাবপত্রসহ ৪৬টি পরিবারের সহায় সম্পদ।

মাস দুয়েক অঅগে একইভাবে ভাঙনের শিকার হয় ২শ’ পরিবার। ভাঙনের শিকার এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার অত্যন্ত মানবেতর দিনাতিপাত করছে। চালা নেই, চুলা নেই, আশ্রয়হীন অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে কয়েকশত নারী-পুরুষ ও শিশু। বিগত ৩ মাস ধরে সেখানকার মানুষ ভয়াবহ ভাঙ্গনের শিকার হলেও সরকারিভাবে এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে কোন ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে না। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড, তাৎক্ষণিকভাবে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যার ফলে দিনের পর দিন মেঘনার করাল গ্রাসে পতিত হয়ে চানপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামটি মানচিত্র থেকে মুছে যাবার উপক্রম হয়েছে। একইভাবে ভাঙন চলছে পাশর্র্^বর্তী মির্র্জাপুর, চরমধুয়া ইত্যাদি ইউনিয়নে। ইতোমধ্যেই এ দুটি ইউনিয়নের কয়েকশত বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঈদগাহ মাঠ, গোরস্থান মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী শিকস্তি এই জনপদের অসহায় মানুষের সাহায্যে কেউই এগিয়ে আসছে না।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড, নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি নিজে চানপুর ইউনিয়ন, চরমধুয়া ইউনিয়ন ও মির্জাচর ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু তাদের রিসোর্স না থাকায় ভাঙন প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে নরসিংদী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ভূইয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে গত ২২ ও ৩০ আগস্ট চানপুর, চরমধুয়া, মির্জাচর ও নরসিংদীর করিমপুর শুটকিকান্দা এলাকায় দু’দফা ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

নতুন করে যারা ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে তাদেরও অতি শিগগিরই জেলা পরিষদের সাহায্যের আওতায় আনা হবে।

এ ব্যাপারে চানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোমেন সরকার জানান, নদী ভাঙন রোদে বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছে। এ পর্যন্ত কোন সুফল পাওয়া যায়নি।