আসেন বাসায়ই আছি, ধরে নিয়ে যান: ইমরান

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেয়ার মামলায় গণজাগরন মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কয়েক ঘণ্টা পর নিজেকে গ্রেপ্তার করার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘আসেন বাসায়ই আছি, ধরে নিয়ে যান।’

২০ সেপ্টেম্বর বুধবার ইমরানসহ দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম শেখ ছামিদুল ইসলাম। পরোয়ানা জারি হওয়া অন্য আসামি হলেন সনাতন উল্লাস। মামলার ধার্য তারিখে আসামিরা উপস্থিত না হওয়ায় আদালত এই পরোয়ানা জারি করেন।

মামলায় বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট থেকে ভাস্কর্য সরিয়ে নেয়ার প্রতিবাদে গত ২৮ মে রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের এক সমাবেশে ‘ছি, ছি, হাসিনা, লজ্জায় বাঁচি না’ শিরোনামে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মানহানিকর স্লোগান দেয়া হয়, যা প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের জন্য মানহানিকর। ওই সমাবেশে ইমরান এইচ সরকার এবং সনাতন উল্লাস নেতৃত্ব দেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে ইমরান লিখেন, ‘বাহ! চালের দাম নিয়ে লেখার পরদিনই আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা! মামলা কি রেডিই থাকে নাকি? মামলা করবেন, আদালতে গেলে হামলা করবেন! দেশটা তো আপনাদের মগের মুল্লুক, তাই না?’

তিনি আরো লেখেন, ‘এই দেশে বাইরে থাকার চেয়ে জেলখানাই ভালো। আসেন বাসায়ই আছি, ধরে নিয়ে যান।’

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে দেয়া স্লোগানের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে ২৯ মে রাতে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে শাহবাগে ইমরান সরকারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। সমাবেশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যেখানে ইমরান এইচ সরকার ও সনাতনকে দেখা যাবে, সেখানেই কুত্তার মতো পেটানো হবে।

পরে গত ৩১ মে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী মামলাটি করেন। এই মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে এবং পরে শাহবাগে হামলার শিকার হন ইমরান এইচ সরকার।

উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় হলে এর প্রতিবাদে ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালে শাহবাগে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা অবস্থান নেন। পরে সেটি বিপুল সমাবেশে রূপ নিলে গণজাগরণ মঞ্চের সূচনা হয়। এর আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন ইমরান এইচ সরকার। শুরুতে ছাত্রলীগ এই মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তারা সরে যায়। ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে গণজাগরণ মঞ্চ এখন একটি সংগঠন হিসেবে কাজ করছে।