সুচির সুরেই কথা বললেন মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে যোগ দিয়েছে সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থায়ো। রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেছেন তিনি।

জাতিসংঘ ভাষণে রোহিঙ্গাদেরকে তিনি ‘মুসলিম’ হিসেবে তুলে ধরেন। সু চির মতো করেই দাবি করেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে পালিয়ে আসার কারণ সম্পর্কে তিনি অজ্ঞাত।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত মঙ্গলবারের ভাষণে সু চি বলেন, ‘মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশকিছু সংখ্যক মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে- এ ধরনের খবর শুনে আমরা উদ্বিগ্ন।’ তিনি বলেন, শরনার্থী হিসেবে যারা বাংলাদেশে গেছে যে কোন সময় তাদের পরিচিতি পর্যবেক্ষণ করে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসনে আমরা প্রস্তুত। সু চি দাবি করেন, সব মুসলিমদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়নি। কেন এত মুসলিম বাংলাদেশে যাচ্ছে সেটাও খতিয়ে দেখা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ সবটাই শুনতে হবে।

মিয়ানমারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন থায়ো। অধিবেশনে অংশ নেন নি সু চি। জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাইস প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, বেশিরভাগ মুসলিম এখনও মিয়ানমারে থেকে গেছেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পালিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি অজ্ঞাত। মিয়ানমার রাখাইনের সহিংসতার তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।

গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এরপর থেকে সেখানে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো সহিংস অভিযানে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পোড়ানো, গণহত্যা ও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘ বলছে, এর জের ধরে ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা। তবে থিও দাবি করেন, সন্ত্রাসী হামলার পর রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর চালানো অভিযানের ফলে অমুসলিমদের ওপরও প্রভাব পড়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলে এ সহিংস অভিযানের তুমুল সমালোচনা হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে। জাতিসংঘেও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র নেতারা এর কড়া সমালোচনা করেছেন। বুধবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেন। এসব সমালোচনার বিষয় কোনো কথা বলেননি থিও।

এর আগে মঙ্গলবার রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সুচির বক্তব্যে মানবাধিকার সংস্থাগুলো হতাশা প্রকাশ করে। সুচির বক্তব্য মিথ্যাচারে ভরা ও বিভ্রান্তিমূলক উল্লেখ করে অনেক দেশ ও সংস্থা এর সমালোচনা করে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি