এবার ধর্ষণের অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন ‘ফলাহারি বাবা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ধর্মের মুখোশে স্বঘোষিত বাবাদের চেহারাটা যে ঠিক কী রকম, রাম রহিমের ঘটনাতেই তা প্রমাণ হয়েছে। এবার খোঁজ মিলল আরেক ভণ্ড ‘বাবার’। যৌনতায় আসক্ত সেও। যৌন লালসা চরিতার্থ করতে নিজের ভক্তের কন্যাকেই বেছে নিয়েছিল।

আর তার জেরেই বিপত্তি। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে রাজস্থানের ওই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর নামে।

এনডিটিভি এক খবরে জানিয়েছে, গতকাল বুধবার ২১ বছর বয়সী এক তরুণী অনুসারী কৌশলেন্দ্রর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। ওই তরুণীর বাড়ি ছত্তিশগড় রাজ্যের বিলাসপুরে। অভিযোগে ওই তরুণী বলেছেন, কৌশলেন্দ্রর আশ্রম রাজস্থানের আলওয়ারে। সেখানেই গত ৭ আগস্ট তাঁকে ধর্ষণ করেন কৌশলেন্দ্র।

রাজস্থানের আরভালি থানার কর্মকর্তা হেমরাজ মীনা বলেন, ‘বিলাসপুর থানার পুলিশ অভিযোগটি এখানে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমরা অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছি। প্রাথমিক তদন্ত চলছে।’

তিনি বলেন, তাঁরা কৌশলেন্দ্রর আশ্রম পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু তখন তিনি চিকিৎসার জন্য আলওয়ারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। চিকিৎসকদের অনুমতি পেলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুলিশ জানায়, কথিত ধর্মগুরু কৌশলেন্দ্র প্রপানাচার্য ফলাহারি মহারাজ প্রায় সময় ওই তরুণীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা কৌশলেন্দ্রর ভক্ত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই তরুণী আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে এখন শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেন। গত ৭ আগস্ট তিনি ওই আশ্রমে কিছু অর্থ দান করতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানেই কৌশলেন্দ্র তাঁকে ধর্ষণ করেন।

বিলাসপুর থানার উপপুলিশ সুপার অর্চনা ঝা বলেন, ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যরা কৌশলেন্দ্র বাবার ভক্ত। তাঁরাই ওই তরুণীকে অর্থ দান করতে আশ্রমে পাঠিয়েছিলেন। আশ্রমে গেলে কৌশলেন্দ্র তাঁকে অপেক্ষা করতে বলেন। পরে ডেকে নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় কাউকে না জানানোর জন্য হুমকিও দেন কৌশলেন্দ্র বাবা।

কিন্তু বাড়ি ফিরে ওই তরুণী তাঁরা মা-বাবাকে বিষয়টি খুলে বলেন। পরে মা-বাবা এই থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তা মামলা হয়।

এর আগে দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের অভিযোগে করা দুটি মামলায় গত ২৫ আগস্ট দোষী সাব্যস্ত করা হয় হরিয়ানার কথিত ধর্মগুরু রাম রহিমকে। তাকে দুটি মামলায় ১০ বছর করে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন সিবিআই আদালত।

তবে দেশটিতে এমন কর্মকাণ্ড শুধু রাম রহিম ও কৌশলেন্দ্র প্রপানাচার্য ফলাহারি মহারাজই ঘটাননি; তাদের আগেও অনেক ‘ধর্মগুরু’ এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। অনেকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। কথিত এসব ধর্মগুরুর মধ্যে আছেন ওডিশার সন্তোষ রাউল ওরফে সারথি বাবা, মধ্যপ্রদেশের লাল বুলচান্দনি ওরফে লাল সাঁই, বেঙ্গালুরুর স্বামী নিত্যানন্দ, কেরালার তিরুঅনন্তপুরমের স্বামী গঙ্গেশানন্দ, রাজস্থানের আশারাম বাপু, তাঁর ছেলে নারায়ণ সাঁই, হরিয়ানার সন্ত রামপাল, তামিলনাড়ুর স্বামী প্রেমানন্দ, উত্তর প্রদেশের প্রেমানন্দ মহারাজ, উত্তর প্রদেশের চিত্রকূটের স্বামী ভীমানন্দজি মহারাজ প্রমুখ।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি