র‌্যাম্প মডেল থেকে ‘জঙ্গি কমান্ডার’

স্টাফ রিপোর্টার- রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকা থেকে ইমাম মেহেদী হাসান ওরফে আবু জিব্রিলকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতার মেহেদী র‌্যাম্প মডেল থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই কুতনি’র কমান্ডার হয়ে ওঠেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন সেট, একটি পাসপোর্ট, উগ্রবাদী বইসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ।

তিনি জানান, ‘মেহেদী হাসানের বাবার নাম খোরশেদ আলম। তার বাড়ি পটুয়াখালির বাউফলের রাজাপুরে, তিনি দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করেছেন। বিবিএ সম্পন্ন করার পর কিছুদিন র‌্যাম্প মডেল হিসেবে কাজ করেন। ২০১৫ সালে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন।

তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, ‘২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর র‌্যাবের অভিযানে পালাতে গিয়ে নিহত হন জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের তৎকালীন আমির সারোয়ার জাহান ওরফে মানিক ওরফে আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। এই বাসা থেকে জেএমবির দুটি অপারেশনাল ব্রিগেড বদর স্কোয়াড ও ব্রিগেড আদ-দার-ই-কুতনী সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে বদর ব্রিগেড রাজধানীর হলি আর্টিজানসহ বিভিন্ন হামলায় ভূমিকা রাখে। তবে দেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বদর ব্রিগেডের বেশির ভাগ সদস্য নিহত ও আটক হয়। এতে ব্রিগেডটি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ব্যাকআপ ব্রিগেড হিসেবে আদ্-দার-ই-কুতনী সদস্য সংগ্রহ করে শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করে।

র‌্যাবের সিও বলেন, ‘সারোয়ার-তমিম গ্রুপের উচ্চ ও নিম্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মেহেদীর যোগাযোগ ছিল। তার সঙ্গে বাংলাদেশি প্রবাসীদেরও যোগাযোগ ছিল। তার মাধ্যমে অনেক সময় জঙ্গিবাদের অর্থ এসেছে বলে জানতে পেরেছি।

র‍্যাবের একটি সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসান ইংরেজিতে কথা বলা ও লেখায় বেশ দক্ষ। দেশের শীর্ষ মডেলদের সঙ্গে এক সময় তিনি মডেলিং করতেন। মডেলিং ও ব্যবসা করার সময় তিনি জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হন মেহেদী। এরপর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। জিডি করার পর থানা ও র‍্যাব-৩ কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু মেহেদীর কোনো সন্ধান থানা-পুলিশ কিংবা র‍্যাব থেকে তাঁদের দেওয়া হয়নি।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি