চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গাপূজো সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ

জাকির হোসেন পিংকু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজো সুন্দর পরিবেশে ও সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দফায় দফায় বৈঠক। জেলার মন্ডপগুলিতে এখন চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। এ বছর মা দূর্গার আগমন হবে নৌকায় চড়ে। এর প্রস্তুতিতে ইতিমধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে। চলছে কেনাকাটা।

জেলা পুজো উযযাপন কমিটি সভাপতি বাবুল কুমার ঘোষ আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জানান, এবার জেলায় ৫টি বেড়ে মোট ১২৭টি মন্ডপে পূজো অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদরে সর্বাধিক ৫৫, শিবগঞ্জে ৩৫, গোমস্তাপুরে ২৪, নাচোলে ১১ ও ভোলাহাটে ২টি মন্ডপে পুজো অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর সদরে ৪টি, শিবগঞ্জে ৩টি মন্ডপ বেড়েছে ও গোমস্তাপুরে ২টি কমেছে। এখন পর্যন্ত জেলায় চমৎকার উৎসবমূখর পরিবেশ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাবুল কুমার ঘোষ বলেন, পূজো নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রথমে রাজশাহীতে বিভাগের আটটি জেলার পূজো উদযাপন কমিটি নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক করেন পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি। এরপর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বৈঠক হয়। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পৃথক বৈঠক করেছে। গত বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মোজাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে সুবিধে অসুবিধে নিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা, সদর উপজেলা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌর এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ সহ শিবগঞ্জের প্রদীপ গড়গড়িয়া, গোমস্তাপুরের ডলার সাহা, নাচোলের গোবিন্দ সাহা, ভোলাহাটের শচীন কর্মকার সহ সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সুপার আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজোয় জেলার প্রতিটি মন্ডপে সুশৃংঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিস্ট সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষে আইন-শৃংখলা রক্ষার্থে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার, গ্রামপুলিশ ও মন্ডপের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীরা আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপগুলোতে সিসিটিভির আওতায় আনা হবে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

মন্ডপগুলিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে প্রতিটি মন্ডপে নজরদারী করা হবে। বাবুল কুমার ঘোষ বলেন, এসবের বাইরে ইতিমধ্যে র‌্যাবের টহল শুরু হয়েছে। সীমান্ত এলাকার মন্ডপগুলির নজরদারিতে বিজিবি সাহায্য করবে। জেলায় ১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে দায়িত্ত্ব পালন করবেন। এছাড়া জেলার ৮টি গুরুত্ত্বপূর্ন পয়েন্টে ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসকসহ সমন্বিত টাস্কফোর্স প্রস্তুত থাকবে।

২৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বের রাত ৮টার মধ্যে পূজো বিসর্জনের মধ্যে সমাপ্ত হবে এবারের শারদীয় দূর্গোৎসব। তিনি বলেন, মন্ডপগুলি মূলত: নিজস্ব অর্থায়নে পূজোর আয়োজন করে। এর বাইরে এ বছর ধর্ম মন্ত্রনালয় থেকে প্রতি মন্ডপের জন্য আধা টন করে চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট জেলার ৩৫ টি মন্দিরের জন্য নগদ ৭১ হাজার টাকা দিয়েছে। জেলা পরিষদও কিছু মন্দিরে অর্থ সাহায্য করেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার গতবারের চাইতেও বেশী আনন্দ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে সার্বজনীন উৎসবটি উদযাপিত হবে। গত বছর জেলায় মন্ডপের সজ্জা, নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিবেচনায় প্রথম স্থান অর্জনকারী জেলা শহরের হুজরাপুরের ঝংকার পুজো মন্ডপ কমিটি সভাপতি ক্ষুদিরাম পাল বলেন, এ বছর চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে। তিনি প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।