নওগাঁয় কমতে শুরু করেছে চালের দাম

নওগাঁ প্রতিনিধি: সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ওএমএস চালু এবং প্রশাসন থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরং করায় নওগাঁয় চালের দাম কমতে শুরু করেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে জেলা শহরে এবং ২০ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলা পর্যায়ে শুরু হওয়া ওএমএস’র চাল বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন ডিলাররা। এতে খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ২-৩ টাকা করে চালের দাম কমেছে।

শুক্রবার ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতিজন ক্রেতা ৫ কেজি করে ৩০ টাকা দরে চাল কিনতে পারবেন।

দীর্ঘদিন ধরে সারাদেশে ওএমএস’র চাল বিক্রি বন্ধ থাকায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় দফায় দফায় ধান ও চালের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে চরম বিপাকে পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষ। নতুন করে ওএমএস চালু হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফেরে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে পৌর ক্ষুদ্র বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চাল ২-৩ টাকা কমেছে। পারিজা চাল প্রতিকেজির দাম ৪৪-৪৫ টাকা, আঠাশ ৫৩-৫৪ টাকা, জিরাশাইল ৫৮ টাকা, মিনিকেট ৬০ টাকা, হাইব্রিড ৩৬-৩৭ টাকা এবং এলসি ৪৭-৪৮ টাকা। প্রতি ৫০ কেজি ওজনের বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমেছে।

শহরের মৃধাপাড়া মহল্লার সুফিয়া বলেন, খুচরা বাজারে চালের দাম অনেক বেশি। এতদিন কষ্ট করে চাল কিনতে হয়েছে। এ জন্য ওএমএসের চাল ৩০ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি কিনেছি। সরকার থেকে যে চাল দেয়া হচ্ছে তা পেয়ে আমাদের খুব সুবিধা হচ্ছে। তবে মোটা চালের কারণে খেতে একটু সমস্যাও হচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজার মনিটরিংয়ের কারণে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। তবে ক্রেতা কম হওয়ায় বেঁচাকেনাও কম হচ্ছে। কারণ হিসেবে যারা এক সপ্তাহ আগে চাল কিনেছেন সেসব ক্রেতারা এখনো চাল কিনতে আসেনি। পাইকারী বাজারে চালের দাম কম হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম কমেছে। আগামীতে চালের দাম আরও কমবে।

জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ভারতে চালের দাম কিছুটা কমায় আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশের বাজারে চালের দাম নিন্মমুখী। আশা করা যাচ্ছে চালের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। তবে ওএমএস’র প্রভাবও চালের বাজারে পড়েছে।

নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, জেলার ১১টি উপজেলায় ৩৫ জন ডিলারের মাধ্যমে প্রতিদিন ৩৫ মেট্রিক টন করে সিদ্ধ চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ট্যাগ অফিসার এ বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করছেন। আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চালু থাকবে। ইতোমধ্যে বাজারে ২-৩ টাকা করে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। আগামীতে চালের দাম আরও কমবে বলে তিনি জানান।