কিশোরীদের বিয়ে করতে এসে ধরা খেল বৃদ্ধ ৮ আরব শেখ!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

কিশোরীদের চুক্তিতে বিয়ে করতে এসে ধরা খেয়েছেন ৮ আরব শেখ। ভারতের হায়দ্রাবাদ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। দেশটির পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা শেখদের বয়স ৭০ থেকে ৮০ বা তার কাছাকাছি হবে। আশ্চর্যের বিষয়, এদের মধ্যে একজন অন্ধ শেখও রয়েছেন।

হায়দ্রাবাদের গেস্ট হাউজ ও বাসায় অভিযান চালিয়ে ৫ জন ওমান এবং ৩ জন কাতার নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুজনের বয়স ৮০-এর কাছাকাছি হবে। হাঁটেন লাঠি ভর করে।

একইসঙ্গে আটক করা হয়েছে মুম্বাইয়ের প্রধান কাজী ফরিদ আহমেদ খানকে। কাজী হায়দ্রাবাদে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করান। ৫০ হাজার রুপির বিনিময়ে সার্টিফিকেট দেন তিনি।

গ্রেফতারকৃত ওমানের নাগরিকরা হলেন আল মায়াহ আলি ইসা, আল সালেহি তালিব হুমেইদ আলি, আল ওবাইদানি জুমা শিনুন সুলাইমান, আল সালেহি নাসের খালিফ হামেদ, আল কাশিমি হাসান মাজুল মোহাম্মদ।

কাতারের নাগরিকরা হলেন ওমার মোহাম্মদ সিরাজ আব্দাল রহমান, হামাদ জাবির ও আল-কুয়ারি ও সাফেলদিন মোহাম্মাদ সালিহ।

ফালাকনুমা বিভাগের অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশ মোহাম্মদ তাজুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, তারা কিশোরীদের বাছাই করছিল। দালালরা তাদের দেখানোর জন্য গেস্ট হাউজে নিয়ে আসে। তিনজন দালাল ও তিন কাজীসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

শেখরা কোনো মেয়েকে বিয়ের জন্য বাছাই করলে তাদের অভিভাবকদের ১ লাখ রুপি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় দালালরা। আর নিজেরা রাখে ২ থেকে ৩ লাখ রুপি।

উল্লেখ্য, ভারতের হায়দ্রাবাদ ও এর আশপাশ এলাকায় বিদেশি পর্যটকদের চুক্তিতে কিশোরী বা অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেয়ার একটি সংস্কৃতি চালু রয়েছে। এ বিয়ের পাত্র হল আরব, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা পয়সাওয়ালা শেখরা।

খায়েশ মিটলে সব গুটিয়ে তারা ফিরে যান নিজ দেশে। এসব কাজে সহায়তা করছেন স্থানীয় কাজীরা। বিদেশিদের চাহিদা মেটাতে তারাই মেয়েদের টাকার বিনিময়ে বিয়ে দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে টাকার লোভ দেখিয়ে অনেক নাবালিকার অভিভাবককেও প্রলুব্ধ করছেন। এক্ষেত্রে বিয়ে হচ্ছে চার সপ্তাহের চুক্তির মাধ্যমে।