নির্যাতিত সেই বৃদ্ধাকে বাড়ি তৈরি করে দিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসি

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: প্রিয় পাঠক আমরা গত (১৫ই আগস্ট ২০১৭) তে লিখেছিলাম বহুল আলোচিত একটি সংবাদ হরিপুরে পাষন্ড ছেলের নির্যাতনে ৯৮ বছর বয়সের বৃদ্ধ ‘মা’ হাসপাতালে : মা হলো পৃথিবীর একমাত্র ব্যাংক যেখানে আমরা আমাদের সব দুঃখ কষ্ট জমা রাখি এবং বিনিময়ে নেই বিনাসুদে অকৃত্রিম ভালোবাসা। মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিটির নাম ‘মা’ সেই ‘মা’ কেই মারধর করে বাড়ি থেকে বেড় করে দিল পাষন্ড ছেলে বদিরউদ্দীন (৬০) ঐ বৃদ্ধা মা এখন যাবে কথায়?

ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুরে ৯৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা ‘মা’ কে মেরে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে তারই বড় ছেলে বদিরউদ্দীন। ঘটনাটি ঘটে হরিপুর উপজেলার ৪নং ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গীপাড়া গ্রামে। পাষন্ড ছেলের নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা ‘মা’ ঐ গ্রামের মৃত সফিরউদ্দীনের স্ত্রী তাসলেমা খাতুন (৯৮)।

তাসলেমা খাতুন বরাত দিয়ে গ্রামবাসী জানায়, বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুনের স্বামী মারা যাওয়ার ৩০ বছর হয়। মারা যাওয়ার সময় তার স্বামী দুই ছেলে দুই মেয়ে রেখে যায়, এবং দুই ছেলের নামে ৩ একর ৩০ শতাংশ জমি দলিল দেয়। এবং বসতভিটা বড় ছেলের ছেলে (নাতি) চালাকি করে বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুনের কাছ থেকে দলিল করে নেয়। সেই বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুন চোখে ঠিক মতো দেখা না, কানে তেমন শোনে না, মুখে কথা বলতে পারে না।
সরে জমিনে জানা যায়, গত (১৫ই আগষ্ট) মঙ্গলবার সকালে বৃদ্ধা তাসলেমা খাতুন খুধার্থ ছিলেন তখন তিনি বড় বউমার কাছে ভাত চাইতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। নামনুচ্ছুক গ্রামবাসী জানায়, খাবার কে কেন্দ্র করে বউয়ের কথায় ছেলে বদিরউদ্দীন বৃদ্ধা মায়ের মুখ বরাবর আঘাত করে। ঘটনা স্থালে বৃদ্ধা মায়ের বাম চোখের নিচ অংশ ক্ষত হয়ে রক্ত পাত হয়। নির্যাতন শেষে বাড়ির বাহিরে ফেলে রেখে যায়। তখনি গ্রামবাসীরা বৃদ্ধা মাকে মূমূ অবস্থা দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করে।

কর্মরত চিকিৎসক জানায়, রোগীর অবস্থা খুব খারপ তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠাতে হবে। এই বিষয়ে ছোট ছেলে হরিপুর উপজেলা শাখার বিআরডিবির কর্মচারী মোসলেমউদ্দীন (সুধু) মুঠো ফোনে বলেন, ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। এভাবে বিদ্ধা মাকে মার ধর করা ঠিক হইনি।
পরে খবর পেয়ে সংবাদ কর্মীদের সহযোগীতায় জেলা প্রশাসক ওই বৃদ্ধা ‘মা’ কে ৭০ কি:মি: জেলা সদর থেকে এসে একটি পরিত্যক্ত ঝুপড়ি ঘর থেকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় এখন আবার ওই বৃদ্ধা ‘মা’ এর জন্য একটি বাড়ি তৈরি করে “বড় ছেলের” দায়িত্ব পালন করলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক।

হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ বেগ জানান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল স্যারের নির্দেশে ছেলের হাতে নির্যাতিত বৃদ্ধা মায়ের জন্য একটি টিনের ঘর, নলকূল ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃদ্ধা মা হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরলে নতুন বাড়িতে উঠবে বলে তিনি জানান।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শতবর্ষী বৃদ্ধা তসলিমা খাতুনকে নতুন বাড়ি তৈরির খবর জানানোর পরে তার অনুভুতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, হামার ডিসি মোর বড় ছুয়া (আমার বড় ছেলে)। হাসপাতালত মোর প্রতিদিন খবর নিছে (প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিয়েছে)। শুনিছু এলা নতুন বাড়ি তৈরি করে দিছে (এখন নতুন বাড়ি তৈরি করে দিয়েছে)। বাড়ি গেলে নতুন বাড়িত থাকিম আর বড় ছেলের তানে দোয়া করিম (বাসায় গিয়ে নতুন বাসায় ডিসির জন্য দোয়া করবো)।

এ ব্যাপারে বহুল আলোচিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কণ্ঠস্বরের জেলা প্রতিনিধির সাথে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়ালের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ১৫ আগস্ট গভীর রাতে বৃদ্ধা মাকে মারধরের বিষয়টি জানতে পেরে খুবই ব্যাথিত হয়েছি। তাই পরদিন সকালে বৃদ্ধা ‘মা’ কে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহন করি। যেহেতু বৃদ্ধা ‘মা’ এর থাকার ঘর নিয়ে সমস্যা তাই মায়ের জন্য সন্তান হিসেবে একটি টিনের ঘর ও বাথরুম তৈরি করে দিয়েছি। যেন শেষ জীবন পর্যন্ত নিরাপদে থাকতে পারেন তিনি। শীঘ্রই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বৃদ্ধা ‘মা’ কে নতুন বাড়িটি উপহার দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, মা কে নির্যাতনের অভিযোগে ছেলে দবির উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই রাতে উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে বৃদ্ধা ‘মা’ তার সন্তানের প্রতি কোন অভিযোগ নেই জানায় ও ছেলেকে দেখার আকুতি করলে আদালত নির্যাতনকারী বড় ছেলে দবির উদ্দিনের জামিন মঞ্জুর করেন।