দশমিনায় আশা’র মাঠ কর্মীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মোঃ মামুন তানভীর, দশমিনা, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার (এনজিও সংস্থা) আশার এক মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ওই এনজিওর কর্মকর্তার নাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম মৃধা। সে দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজির হাট গ্রামের বাসিন্দা ও এনজিও সংস্থা আশার গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি শাখায় মাঠকর্মী (লোন অফিসার)) হিসেবে কর্মরত আছেন।
জানা গেছে, বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধিনে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নাম করে সাধারন মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। আশার মাঠ কর্মী (এনজিও সংস্থা) মোহাম্মদ ইব্রাহিম মৃধার বড় ভাই মোঃ নুরুল হক মৃধার সহায়তায় বাউফল জোনাল অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগশাজসে এ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দশমিনা সদর ইউনিয়নের হাজির হাট গ্রামের আড়াই শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা করে ৫ লক্ষাধিকেরও অধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম মৃধা ও তাঁর বড় ভাই মোঃ নুরুল হক মৃধা। অথচ টাকা দেয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। টাকা দিয়েও বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছেন না ওই গ্রামের বাসিন্দারা। এখন দফায় দফায় টাকা দাবি করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

দশমিনা সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মোঃ নিজাম বলেন, ইব্রাহিম ও তাঁর ভাই আমার কাছ থেকে দু’টি মিটারের জন্য দুই হাজার টাকা নিয়েছে গত এক বছর আগে। আরও টাকা চাইলে আমি দিতে অস্বীকৃতি জানাই।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় হাজিরহাট গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শাহ আলম, মোঃ রফিক,মোঃ আলম বিশ্বাস, আবু কালাম মাতুব্বরসহ অনেকের সাথে।

অধিকাংশ ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, গত এক বছর আগে আশার (এনজিও সংস্থা) মাঠ কর্মী মোহাম্মদ ইব্রাহিম মৃধা ও তাঁর বড় ভাই মোঃ নুরুল হক আড়াই শতাধিকেরেও অধিক গ্রাহকের নামের তালিকা তৈরি করে বাউফল জোনাল অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তাল বরাত দিয়ে প্রতিজন গ্রাহকের কাছ থেকে ২ খেকে ৪ হাজারেরও বেশি টাকা উত্তোলন করেন। পরে দ্বিতীয় ধাপে দেড় মাস আগে বিদ্যুতের খুটি দেখিয়ে আরও দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দাবি করলে অনেকেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইব্রাহিম তাদের বলে টাকা না দিলে বিদ্যুতের খুটি পর্যন্তই সীমাবন্ধ থাকবে। মিটার ও বিদ্যুৎ সংযোগ চোখে দেখা লাগবেনা বলে ইব্রাহিম তাদের হুমকি দেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ ইব্রাহিম মৃধার কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমার কাছে কেউ টাকা দেয়নি।

আশার (এনজিও সংস্থা) গলাচিপা উপজেলার দায়িত্বে থাকা মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, টাকা আত্মসাতের বিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখবো।

বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এ কে এম আজাদ বলেন, কোন প্রতারক টাকা নিলে তাকে পুলিশের দেয়ার অনুরোধ জানান। আমরা এ ব্যাপারে গ্রাহকদের সচেতন করার চেষ্টা করছি।