‘জঙ্গি ধরতে স্পেন ও বাংলাদেশে একযোগে অভিযান’

সময়ের কণ্ঠস্বর: জঙ্গিদের অর্থায়নের অভিযোগে বাংলাদেশ ও স্পেনে একসঙ্গে অভিযান পরিচালনা করেছে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে মোট ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি জানান, আজ অভিযানে নতুন একটি মাত্রা যোগ হয়েছে। সেটি হলো জঙ্গি ধরতে বাংলাদেশের ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীতে র‌্যাবের আটটি টিম একসঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে। সেই সঙ্গে স্পেনে সে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও একই ইস্যুতে অভিযান পরিচালনা করেছে।

দুই দেশের অভিযানে মোট ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জঙ্গি অর্থায়নের মূলহোতা আতাউল হক সবুজ। তাকে স্পেন থেকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশে আটকরা হলো- আল মামুন (২০), আল আমিন (২৩), ফয়সাল ওরফে তুহিন (৩৭), মঈন খান (৩৩), আমজাদ হোসেন (৩৪), মো. নাহিদ (৩০), মো. তাজুল ইসলাম ওরফে শাকিল (২৭), মো. জাহেদুল্লাহ (২৯), আল আমিন (২৩), টনি নাথ (৪০) এবং মো. হেলাল উদ্দিন (২৭)।

আটকদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি আরো জানান, আইব্যাক নামের একটি সফটওয়ার কোম্পানির মালিক জঙ্গিবাদে অর্থায়ন করত। তার মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই আতাউল হক সবুজ স্পেনে বসে জঙ্গিবাদে অর্থায়ন করতেন। পরে বিষয়টি গোয়েন্দাদের নজরে আসে এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে বিষয়টি সে দেশের গোয়েন্দাদের জানানো হয়।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আইব্যাক নামের একটি সফটওয়ার কোম্পারি বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর নয়টি দেশে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করত। প্রতিষ্ঠানটি জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের বাশারুজ্জাম চকলেটের মাধ্যমে তামিম চৌধুরীকে ৫০ হাজার ইউএস ডলারের সম পরিমাণ বাংলাদেশি টাকা দিতে চেয়েছিল। তখন বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানতে পারে এবং বাংলাদেশে ও যুক্তরাজ্যে আইব্যাকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনার পর আতাউল হক সবুজের ভাই সিরিয়ায় গিয়ে মারা যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটির মালিক হন আতাউল হক সবুজ। তিনি নিরাপদ এলাকা হিসেবে স্পেনে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখান থেকে তিনিও জঙ্গিবাদে অর্থায়ন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ২০১৫ সালে সাতজনকে আসামি করে একটি মামলাও হয়েছিল। ওই মামলায় বর্তমানে চারজন আসামি জামিনে বাইরে রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজন আজকের অভিযানে আটক হয়েছেন।