কোটালীপাড়া দেবগ্রাম আশ্রায়ণ প্রকল্প অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত

এইচ এম মেহেদী হাসানাত, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দেবগ্রাম আশ্রায়ণ প্রকল্প। এ আশ্রায়ণ প্রকল্পে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট তীব্র। ৫টি ডিপ-টিউব অয়েলের মধ্যে ৪টিই বিকল।

বৃষ্টি হলেই ঘরের টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে। বৃষ্টির পানিতে ঘরের মেঝ ভিজে বসবাসে দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। আর ঘরের সামনে পানি-কাদা জমে থাকে। ঘরের টিনের বেড়াগুলো জড়াজীর্ন ও নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। এখানে স্যানিটেশন ব্যবস্থায় বেহালদশা বিরাজ করছে। আশ্রায়ান প্রকল্পের টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আশ্রায়ণ কেন্দ্রে যাতায়াতের একমাত্র সাঁকো ভেঙ্গে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়ে আশ্রায়ণ প্রকল্পের নিবাসীরা এ সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। কেউ অসুস্থ হলে তাকে এ সাঁকো পার হয়ে ডাক্তারের কাছে নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সাঁকে ভেঙ্গে পড়ায় আশ্রায়ণে যান চলাচল ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো পারা হতে গিয়ে আনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। পা পিছলে পড়ে গিয়ে আনেকেই আহত হয়েছেন। এছাড়া আশ্রায়ণের কমিউনিটি সেন্টারের চাল ও বেড়া ২০০৭ সালে সিডরে উড়িয়ে নিয়ে যায়। কমিউনিটি সেন্টারের ভিটা ও খুঁটি দাড়িয়ে রয়েছে। আশ্রায়ণের ২ টি উপাশনালয়েও বেহাল দশা বিরাজ করছে। এখনে শিশুদের কোন খেলার মাঠ নেই। এমন সব সমস্যা নিয়ে দিন কাটছে দেবগ্রাম আশ্রায়ণের ১শ পরিবার।

দেবগ্রাম আশ্রায়ণের নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা নওয়াব আলী শেখ (৭০), শুকচান বাড়ৈ (৬৫) ও পারভীন বেগম (৪২) বলেন, ২০০১ সালে দেবগ্রামের ৮ একর জমির ওপর নির্মিত ওই আশ্রায়ণ প্রকল্পে ১০ মুক্তিযোদ্ধাসহ ১শ দুঃস্থ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। প্রত্যেককে ৮ শতাংশ জমির দলিলসহ দেয়া হয় বসবাসের ঘর। যতই দিন গড়াচ্ছে আশ্রায়ণে ততই সমস্যা প্রকট হচ্ছে। বৃষ্টি এলে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ছে। এ পানিতে ঘরের মেঝ ভেসে যাচ্ছে। ঘরের বেড়া জড়াজীর্ন হয়ে পড়েছে। বেড়া নড়বড়ে হয়ে পড়ায় ঘরগুলো নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে।

আশ্রয়ণের বাসিন্দা মোঃ জালাল শেখ (৫৫) বলেন, প্রায় ৬ বছর ধরে আশ্রায়নে যাতায়াতের এক মাত্র সাঁকো ভেঙ্গে দেবগ্রাম খালে হেলে পড়েছে। এ সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে আমরা চলাচল করছি। এ সাঁকো দিয়ে যানচলাচল করতে পারেনা। পণ্য আনা নেয়া করা যায়না। এ সাঁকো পাড় হতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত হন।

গৃহবধু কাঞ্চন বাকচী (২৫) বলেন, এখানে খাবার পানির সংকট তীব্র। ৫টি গভীর নলকূপের মধ্যে ৪টিই বিকল। একটির পানি দিয়ে আশ্রয়ণের পানির চাহিদা মিটছে না। এখানকার টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী। পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।
বাসিন্দা নিখিল হালদার (৫৫) বলেন, কমিউনিটি সেন্টার সিডরে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। মন্দির ও মসজিদের বেহাল দশা বিরাজ করছে। এখানে শিশুদের খেলার জায়গা নেই।

রীনা বিশ্বাস (৪৫) বলেন, এসব সমস্যার কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বার বার জানিয়েও কোন ফল হয়নি। কেউ আগ্রহও দেখাননি। এসব সমস্যা নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই কারও। তিনি আরও বলেন, আমাদের ভিটা ও বসতঘরসহ যা কিছু আছে সেগুলোর কোন রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করা হচ্ছেনা। আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের দিকেও তাকানো হচ্ছে না।

কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, দেবগ্রাম আশ্রায়ণ প্রকল্পের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রকল্প গ্রহন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও এলজিইডিতে পাঠানো হয়েছে। সাঁকো সহ সব সমস্যার সমাধান দ্রুত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।