চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বেঁধে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি– ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ডৌহাখলা ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুরের গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের পাম্প চুরির অভিযোগে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে মৎস্য কেন্দ্রের কাশবন থেকে ওই কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত সাগর মিয়া (১৬) ময়মনসিংহের রেলওয়ে বস্তির নাটঘরলেন শিপন মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার ভোরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গৌরীপুর উপজেলাধীন চরশিরামপুর এলাকার গাউছিয়া মৎস্য হ্যাচারিতে চোর সন্দেহে সাগর নামের ওই কিশোরকে আটক করা হয়। এরপর হ্যাচারির মালিক আক্কাস আলী ও কর্মচারী কাইয়ুমসহ তার লোকজন ওই কিশোরকে টেলিফোনের খুঁটির সাথে বেঁধে নৃশংসভাবে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

এক পর্যায়ে সাগর অজ্ঞান হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে চরশ্রীরামপুরের হামেদ আলীর ছেলে আহাম্মদ আলীর (৩৫) অটোরিকসাযোগে ময়মনসিংহের দিকে রওনা হয়। অটোরিকসাটি ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গৌরীপুর উপজেলার সাহেবকাচারি এলাকায় পৌঁছতেই সাগর মারা যায়। এরপর ওই কিশোরের লাশ নিয়ে গুম করে ফেললে সোমবার সারাদিন লাশ নিয়ে ধুম্র্রজালের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ওই কিশোরের কোনো সন্ধান পায়নি। গৌরীপুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে গাউছিয়া মৎস্য হ্যাচারির পাশে একটি কাশবন থেকে ক্ষতবিক্ষত সাগরের লাশ উদ্ধার করে। পরে আক্কাছ আলী ও তার স্বজনরা পালিয়ে যায়।

বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ওই কিশোরের কোনো সন্ধান পায়নি। ঘটনার পর থেকে গাউছিয়া মৎস্য হ্যাচারির অফিসে তালা ঝুলছে। হ্যাচারির মালিক আক্কাছ আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

তবে আক্কাছ আলীর স্ত্রী শিউলী আক্তার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তাদের মৎস্য খামারে এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা তিনি শোনেননি।

গৌরীপুর থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাগরের ডান পায়ে হাঁটুর নিচে ভাঙা। অন্ডকোষে, মুখ, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা শিপন মিয়া বাদী হয়ে মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের মালিক আক্কাস আলী, তার পাঁচ ভাই ও এক কর্মচারীর নামোল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ছয় জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দুপুরেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি