তুলা চাষে বিপ্লব ঘটেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি: বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বৈচিত্রময় তুলা চাষে কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে। হাইব্রিড কার্পাশ তুলা চাষ গোদাগাড়ীর পরিবেশ অনুকুলে।

গোদাগাড়ীর উপজেলার মাটিকাটা, দেওপড়া ও কাঁকনহাট পৌর এলাকার মাঠে এই তুলার চাষ হচ্ছে। এ বিষয়ে গোদাগাড়ীর কাঁকনহাটের কৃষক ইবলাল হাসান গত বছর তিন বিঘা জমিতে তুলা চাষ করে ভাল লাভ করায় এই বছরে তিনি ৬ বিঘা জমিতে তুলার চাষ করছেন। তিনি বলেন ১ বিঘা জমিতে তুলা চাষ করতে সর্বোচ্চ ব্যায় হয় ৮ হাজার টাকা। এবং তুলা বিক্রি হয় ২৬ হাজার টাকারও বেশী।

সরকারিভাবে তুলা চাষের জন্য তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বরেন্দ্র অঞ্চলে চাষীদের তুলা চাষে আগ্রহী করে তোলার জন্য সরকারি ভাবে চাষীদের বীজ, সার এবং কীটনাশক বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ১ বিঘা জমিতে মাত্র ছয়শ গ্রাম বীজ লাগে। এই বীজ রোপনের পূর্বে জমি ভাল করে চাষ দিয়ে আলু চাষের ন্যায় ৯০ সেন্টিমিটার দুরত্বে সারি তৈরী করে ৮ সেন্টিমিটার পর পর বীজ রোপন করতে হবে।

বীজ ১-১৫ জুনের মধ্যে রোপন শেষ করতে হয়। সেচ ও নিরানী লাগেনা বলে খরচ সাশ্রয়ী এই ফসলে। শুধুমাত্র টিএসপি, এমওপি, ইউরিয়া, বরুন ও দস্তা সার মিলিয়ে মাত্র আঠার কেজি করে তিনবার জমিতে দিতে হবে। ১৬০ দিনে তুলা উত্তোলন করা যায়। তুলা চাষে মাজরা, চিসিট ও আঁচাই পোকার আক্রমন হয় কিন্ত এই সকল পোকা অতি সহজে দমন করা যায় বলে জানায় ওই কৃষক।

বাদলসহ কৃষক মোজাম্মেল হক, মিলন, মোশাররফ ও সামির বলেন, বিঘাপতি ১২-১৪ মন করে তুলা উৎপাদন হয়। তারা বলেন, আর এই তুলা বিচিসহ আড়তদাররা জমিতে এসে গত বছর মন প্রতি ২২৪০ টাকা করে কিনে নিয়ে গেছেন। আর বিচি বাদে শুকনা তুলা বাজারে কেজি প্রতি ১২০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে তারা জানান। মাঠে থেকেই তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি হয়ে যায়। তারা বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকা অব্যাহত থাকলে আগামীতে তুলা চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে কৃষকরা আশা করেন।

বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাঁকনহাট অফিসের প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখা এবং কৃষির প্রসার ঘটানোর জন্য সাতশ ঊনপঞ্চাশটি গভীর নলকুপ ও পাঁচ হাজার পাঁচশ অ-গভীর নলকুপের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও বৃষ্টির সংরক্ষণে বিভিন্ন খাড়িতে ক্রোস ড্যাম নির্মাণ ও পুকুর সংস্কার অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া বিদ্যুতের উপর চাপ কমানোর জন্য গোদাগাড়ীতে সৌর প্লান্টের মাধ্যমে গভীর নলকুপের মাধ্যমে পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে।

উপসহকারী কৃষি অফিসার শহিদুল আলম টিপু বলেন, তুলা চাষে বাঁধা প্রদান করছে ইটভাটা। তারা আইন অমান্য করে বাগান ও চাষের জমি নষ্ট করছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে পদক্ষেপ নিলেও বন্ধ হচ্ছেনা এর কার্যক্রম। সেই সাথে যোগ হয়েছে আবাদি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুকুর খনন ও ইটভাটা স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দাবী জানান তিনি।

রাজশাহী তুলা উন্নয়ন বোর্ডে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মোজাদ্দীদ আল শামীম বলেন, সমগ্র বরেন্দ্র অঞ্চলের পোরশা, সাপাহার, গোমস্তাপুর, নাচোল ও গোদাগাড়ী মিলে তাদের তুলা চাষে লক্ষমাত্রা রয়েছে ১ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে গোদাগাড়ীতে কার্পাশ তুলার চাষ হচ্ছে মাত্র ৫ হেক্টর জমিতে। তবে গোদাগাড়ীতে তুলা চাষে চাষীদের আগ্রহীর জন্য নানাবিধ কার্যক্রম ও পরিকল্পনা গ্রহন চলছে।