বগুড়ায় তুফান বাহিনীর ৫ সদস্যের জামিন নামঞ্জুর

এম নজরুল ইসলাম, বগুড়া থেকে:

বগুড়ায় ছাত্রীকে ধর্ষণের পর মা-মেয়েকে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতনের ঘটনার মূলহোতা তুফান সরকারের স্ত্রী, শ্যালিকা, শাশুড়িসহ ৫ জনকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করা হয়। বুধবার বগুড়া অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম সুন্দর রায়ের আদালতে হাজির করে তাদের জামিন চাওয়া হলে বিচারক নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পিপি এড আমান উল্লাহ জানান, ছাত্রীকে ধর্ষণের পর মা-মেয়েকে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার তুফান সরকারের স্ত্রী আশা বেগম, শ্যালিকা কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকি, শাশুড়ি এবং সহযোগী আতিক ও মুন্নাকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ ২৩ অক্টোবর।

উল্লেখ্য, বগুড়ায় ছাত্রীকে ধর্ষণ ও তার মাকে নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত তুফান-রুমকি পরিবার। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে শ্রমিক লীগ নেতা তুফানের পরিচয় হয়। এসএসসিতে পাশ করলেও জিপিএ-৫ না পাওয়ায় ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারছিলেন না ওই ছাত্রী। বিষয়টি জানার পর তুফানের বড়ভাই মতিন তাকে ভালো কলেজে ভর্তি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বলে জানায়। এরপর গত ১৭ জুলাই সকালে তুফান তাকে ফোন করে এবং কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষরের জন্য শহরের চক সূত্রাপুরে তার বাড়িতে ডেকে পাঠিয়ে ধর্ষণ করেন।

ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধর্ষিতা ও তার মাকে ২৮ জুলাই ডেকে এনে মাথা ন্যাড়া করে দেয় তুফান সরকারের স্ত্রী, শ্যালিকা কাউন্সিলর রুমকিসহ অন্যান্য সহযোগীরা। এ ঘটনা প্রকাশের পর মূল নায়ক শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারসহ ৪ সহযোগীকে প্রথম দিনে গ্রেফতার করে তিনজনকে তিনদিনের রিমান্ডে দেন আদালত। এর পরেরদিন কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকিকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। এছাড়াও তুফানের স্ত্রী আশা, তুফানের শাশুড়ি রুমি, তুফানের শ্বশুর জামিলুর রহমান, সহযোগী জিতু, মুন্না ও নরসুন্দর জীবন রবিদাসকে দুইদিন করে রিমান্ড দেওয়া হয়।

 

নির্ভয়ে পূজা উদযাপন করার আহবান -বগুড়া পুলিশ সুপার

শিব শঙ্কর স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে বুধবার বিকেলে শহরের চেলোপাড়ায় দূর্জয় ক্লাব মন্দির প্রাঙ্গনে গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বগুড়া পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বিপিএম বলেছেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই কথায় আজ সারাদেশে সকল শ্রেণীপেশার মানুষ আনন্দঘনভাবে পূজা উদযাপন করছে।

তিনি বলেন, সমাজের সকল শ্রেনীপেশার মানুষ যদি অসহায়দের সাহায্য করে তাহলে আমাদের সমাজে কোন বৈষম্য থাকবে না এবং সকলে একসাথে উৎসব উদযাপন করতে পারবে। সেই সাথে তিনি সাধারন মানুষকে নির্ভয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করার আহবান জানিয়ে সার্বিক নিরাপত্তার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেন।

দূর্জয় ক্লাবের সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পরিমল প্রসাদ রাজের সভাপতিত্বে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলি বলেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদ হোসেন, দৈনিক করতোয়ার বার্তা সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য শঙ্কর, এটিএন নিউজ বগুড়া ব্যুরো চীফ চপল সাহা, বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের বগুড়া জেলার সাধারন সম্পাদক এ্যাড. নরেশ মুখার্জ্জী সহ অনেকে। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনা করেন সঞ্জু রায়। অনুষ্ঠানে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও প্রায় ২ শতাধিক মানুষের মাঝে শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে বস্ত্র করা হয়েছে।

 

দুর্গাপূজা সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে -হুইপ ওমর

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ নূরুল ইসলাম ওমর বলেছেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে একসাথে উৎসব পালন করব। সকলে মিলে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। তাই এ দেশ আমাদের সকলের। বাংলাদেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি।

সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমানাধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি আজ সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে সকলকে কাজ করার আহবান জানান তিনি। তিনি বুধবার বিকেলে বগুড়া শহর ও সদরের বিভিন্ন এলাকায় দূর্গাপূজা মন্ডপ পরিদর্শনকালে কথাগুলো বলেন।

হুইপ ওমর শহরের দ-নাটাইপাড়া পুরাতন মন্দির, সবিতা মন্দির, কৈপাড়া সার্বজনিন মন্দির, সাবগ্রাম মধ্যপাড়া মন্দির, সাবগ্রাম নার্থপাড়া সহ বিভিন্ন মন্দিরে দূর্গাপূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উপস্থিত ছিলেন মন্দির কমিটির দিনেশ্বর সরকার, সুনীল সাহা, শুভ সরকার, প্রভাত চন্দ্র দাস, প্রদীপ সরকার, রঞ্জন দেবনাথ, আনন্দ দেবনাথ, জেলা যুবলীগ নেতা লতিফুল করিম, সদর উপজেলা জাপার সভাপতি এইচ এম ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম শহিদ, সফিকুল ইসলাম সুইট, আলমগীর হোসেন, মাকছুদ আলম হাওলাদার প্রমুখ।