ফরিদপুর শহরে বেড়েছে পাগলা কুকুরের উৎপাত, দেখার কেউ নেই

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুর জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে গোয়ালচামট, আলীপুর, হাজি শরীয়াতুল্লাহ বাজারসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, কিন্ডার গার্টেন এর সামনে দিনে-রাতে দল বেধে পাগলা কুকুরের বিচরণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এসব পাগলা কুকুরের কামড়ে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়েছে এবং ক্যাব কে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত কুকুর নিধন বা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম যথাযথ ভাবে প্রতিপালিত না হওয়ায় জনসাধারণকে এখন কুকুরের হামলার শিকার হতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজ এর ছাত্র/ছাত্রী-তথা অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার এখন শেষ নেই বললেই চলে। কুকুরের কামড়ের ভয়ে অনেক শিশু স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। রাতে শহরের আলীপুর ইসলামিক হসপিটাল এর সামনে দল বেধে কুকুররা রোগীর স্বজনদের উপর তথা এ পথে চলাচলে পথচারীদের উপর হামলা করে থাকে। অপর দিকে, গোয়াচামট এলাকায় জনগণের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে বলে ক্যবকে জানিয়েছেন।

এছাড়া কুকুরের হামলায় আহতরা যথাযথ ভাবে হসপিটাল থেকে ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ এসেছে মিডিয়া কর্মীদের কাছে। বাধ্য হয়ে আহতদের বা পরিবারকে চড়া মূল্য দিয়ে দোকান থেকে ক্রয় করতে হচ্ছে ভ্যাকসিন। এ বিষয়ে প্যানেল মেয়র জাকির হোসেন মিডিয়া কর্মীদের জানিয়েছেন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ফরিদপুর জেলা কমিটির সভাপতি ও জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির অন্যতম সদস্য শেখ ফয়েজ আহমেদ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়া এবং তা নিয়ন্ত্রণে পৌর কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ কুকুরের বেপরোয়া আচরণে দুর্ভোগের শিকার হলেও পৌর কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা বড় দুঃখজনক।

এছাড়া অবিলম্বে এ বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও রাস্তায় চলাচলের পথে কুকুরের কামড়ে আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সাথে যারা শখ করে এবং নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে কুকুর লালন পালন করে থাকেন তাদের কুকুরের গলায় ডগবেল্ট ব্যবহারের অনুরোধ জানান।