নরসিংদী রায়পুরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

মো. হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার: নরসিংদীতে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের ইটের খোয়া, পাথর ও বালি ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি ব্লক নদীর ভাঙন থেকে কিভাবে তীর রক্ষা করবে তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী জানায়- নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হোসেনের সহযোগিতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমন দুর্নীতি করে যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানায় তারা। সম্প্রতি সরেজমিনে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ডৌকারচর ইউনিয়নের তেলিপাড়া ঈদগাহ, ডৌকারচর নতুন ও পুরনো ঈদগাহ ও কবরস্থান রক্ষার তীর সংরক্ষণ কাজের ব্লক নির্মাণ সাইটে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র ও স্থানীয়রা জানায়, ডৌকারচরে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ ৮২ মিটার দরপত্রে যার প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় ৬২ লাখ টাকা। পাথর ও বালি দিয়ে তৈরি ব্লক দিয়ে নতুন ঈদগাহের নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ ১২০ মিটার দরপত্রে যার প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩ লাখ টাকা। নদীর তীরে তেলিপাড়া ঈদগাহ ও কবরস্থান রক্ষা প্রকল্প ৩০০ মিটার, দরপত্রে যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। যা সিরামিকের ইটের খোয়া দিয়ে ব্লক নির্মাণের কথা রয়েছে। ৩টি কাজের দাফতরিক অনুমোদন পাওয়ার ৩ দিনের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিভিন্ন কোম্পানি তাদের দরপত্র দাখিল করে। মেসার্স উদয়ন এন্টারপ্রাইজ ডৌকারচর নতুন ও পুরনো ঈদগাহের কাজে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় এবং তেলিপাড়া ঈদগাহে ওই প্রতিষ্ঠান ২য় অবস্থানে থাকে। কোনো এক অদৃশ্য কারণে নরসিংদী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আগের দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়াকে বাতিল করে তিনটি কাজের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করেন। পরবর্তীতে মেসার্স উদয়ন এন্টারপ্রাইজ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগসাজশ করে দ্বিতীয় দরপত্রে অংশগ্রহণ করে এবং তারা তিনটি কাজের কার্যাদেশ পায়। মেসার্স উদয়ন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাখাওয়াত হোসেন মোল্লা তার নরসিংদীর কাজ দেখাশোনা করেন জনৈক ফররুখ আহমেদ নামে জাতীয় পার্টির অঙ্গসংগঠন যুবসংহতির এক নেতা। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে তার বিশেষ যোগাযোগ আছে। এ সূত্র ধরে তিনি মন্ত্রণালয়ের দোহাই দিয়ে নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ডে একচ্ছত্রভাবে কাজ পেয়ে যাচ্ছেন।

নিম্ন মানের ইটের খোয়া, পাথর ও বালি ব্যবহার হচ্ছে স্বীকার করে নরসিংদী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, ভালো মানের পাথর না পাওয়াতে তারা এ পাথর ব্যবহার করছেন। পরে তারা ভালো মানের পাথর দিয়ে বাকি ব্লক নির্মাণ করবে। পরবর্তীতে কাজে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো প্রকার নিম্ন মানের জিনিস ব্যবহার করা করবে না। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হোসেন দীর্ঘদিন নরসিংদী জেলায় ঘাঁটি গেড়ে বসেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে। বিগত কয়েক মাস পূর্বে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হোসেনকে তত্ত্ব¡াবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। ওই দিনই প্রমোশনের অযোগ্য দাবি করে তা বাতিল করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. দ্বীন ইসলামের নামেও। তিনি নরসিংদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি করে রাজধানী ঢাকার উত্তরায় ২টি বাড়ি, মৌচাক মার্কেটে ২টি দোকান রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-মাওয়া রোডে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫ একর জায়গা লিজ নিয়ে গড়েছেন গরুর খামার। তার ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি প্রতি শুক্র ও শনিবার তার খামারের মালামাল আনা নেয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়।