লাক্স তারকা বাঁধনের ঘর ভাঙ্গনের নেপথ্যে যে রহস্য, পালটা পালটি অভিযোগ দুজনের

বিনোদন ডেস্ক-
মিডিয়া অঙ্গনে ধারাবাহিক সংসার ভাঙ্গনের ধারায় এবার ঘর ভাংলো লাক্স তারকা আজমেরী হক বাঁধনের । সম্প্রতি লাক্স তারকা আজমেরী হক বাঁধনের একটি সাক্ষাতকারের পর প্রকাশ হয়ে যায় তার কিছু ব্যক্তিগত কথা। প্রকাশ হয়ে যায় আলাদা হয়ে গেছেন এই দম্পত্তি ।

ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন লাক্স তারকা আজমেরি হক বাঁধন। নিজের বয়সের থেকে প্রায় বিশ বছরেরও বড়ি তার স্বামী মাশরুর সিদ্দিকী সনেট। বাঁধনের ভাষায়, আমার মা আমার চেয়ে ১৭ বছরের বড়। আর সনেট ছিলো আমার মায়ের থেকেও বড়। স্রেফ সার্টিফিকেটেই আমার চেয়ে বিশ বছরের বড় সে। তবুও তাকে বিয়ে করেছিলাম ভালোবেসেছিলাম বলে। মনে হয়েছিলো সে একজন সুখী সংসারী মানুষ হবে। কিন্তু সেই ধারণা আমার ভুল ছিলো।

২০১০ সালে বিয়ে করা বাঁধনের সংসারটি ভেঙ্গে যায় ২০১৪ সালে। তবে এতদিন বিষয়টি ছিলো শোবিজের গোপন বিষয়। সম্প্রতি বাঁধনের স্বামী বিচ্ছেদ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেন গণমাধ্যমে। সনেট বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চাইছিলেন এটা আঁচ করতে পারছিলেন বাঁধন। তাই তিনিও গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন ডিভোর্স নিয়ে।

এদিকে স্বামী ও স্ত্রী দুজনের কাছ থেকে ডিভোর্সের কারণ হিসেবে পাওয়া গেল আলাদা আলাদা অভিযোগ। তবে কেন্দ্রবিন্দু একটাই। সেটি ছিলো আর্থিক সমস্যা। সনেট ডিভোর্সের কারণ সম্পর্কে বলেন, বিয়ের পর আমি বাঁধনকে নিয়ে গুলশানে উঠি। সেটি ছিলো আমার ভাড়া বাসা। আমি বুঝতে পারিনি তখনও আমি একটা কৌশলী মেয়ের ফাঁদে পড়েছি। কিছুদিন যেতে না যেতেই বললো, আমি আর অভিনয় করবো না। প্রতি মাসে আমাকে ১ লাখ টাকা হাত খরচ দিতে হবে। আমি বললাম, অভিনয় করবে না কেন? তুমি অভিনেত্রী বলেই তোমাকে আমার ভালো লেগেছিলো। অভিনয়টা চালিয়ে যাও। আর সংসার তো আমি চালাচ্ছিই। তোমার সব চাহিদাও মেটাচ্ছি। যখন যতো টাকা লাগে দিচ্ছি। তবে প্রতি মাসে আলাদা করে ১ লাখ টাকা কেন দিতে হবে? উত্তরে সে বললো, এটা তার লাগবেই। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় দুজনের মধ্যে। সে থেকেই ঝামেলার শুরু।

তিনি বলেন, বাঁধন প্রচণ্ড লোভী একটি মেয়ে। ও ভেবেছিলো আমি বিরাট শিল্পপতি। টাকা দিয়ে আমি ওকে মুড়িয়ে রাখবো। এজন্যই সে আমাকে বিয়ে করেছিলো ফাঁদে ফেলে। কিন্তু আদতে অতোবড় শিল্পপতি বা কিছু আমি নই। দীর্ঘদিন আর্মিতে চাকরি করেছি। যা কিছু সঞ্চয় করেছি তাতে কিছু ব্যবসা করে মধ্যবিত্ত জীবন যাপন করার চেষ্টা করি। কিন্তু বাঁধন যখন বিয়ের পরে দেখলো আমি ওর স্বপ্নের মতো নই তখন থেকেই ও হতাশ। প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা চায়, আমার ব্যবসায়ে পার্টনারশিপ চায়। আমি বলতাম যা কিছু আমার সবই তো তার। সে বিশ্বাস করতো না। সে আসলে খুবই লোভী।

বাঁধন বলেন, ওর পরিবার ছাড়া কেউই এই মেয়েটাকে পছন্দ করে না। ওর আত্মীয়দের সঙ্গে আপনারা যোগাযোগ করুন, জানতে পারবেন বাঁধন মানুষ হিসেবে কতোটা নিচু মানের। মিডিয়াতেও অনেকে বাঁধনের বিষয়ে জানে। আমার কাছে অনেক অভিযোগই এসেছে বিয়ের পর। আমি পরে জেনেছি আগেও সে একটি বিয়ে করেছিলো। সেই সংসার থেকে অনেক অর্থকড়ি নিয়ে চলে এসেছিলো। মেয়েটাকে বিয়ে করার আগে বুঝতেই পারিনি ও এমন হতে পারে। যখন ও বাচ্চা নিলো দ্রুত, ভেবেছিলাম সংসারটা মন দিয়ে করবে। কিন্তু সে আর হলো কই। টাকা পয়সা নিয়ে সবসময়ই আক্ষেপ করতো, লোভ করতো। আর তা নিয়েই হতো বিরোধ।

এদিকে বাঁধন বললেন সম্পূর্ণই ভিন্ন কথা। তিনি দাবি করেন, আমি কখনোই সনেটকে শিল্পপতি ভাবিনি, সেসব ভেবে বিয়েও করিনি। এটা আমাদের চারপাশের সবাই জানে। ও আসলে ব্যার্থ একজন পুরুষ ও স্বামী। সংসার চালাতে সমর্থ ছিলো না। মাসের ১৫ তারিখ যেতে না যেতেই বলতো হাতে টাকা নেই। সংসারটা কীভাবে চলে? আমাকে বলতো অভিনয় করো। কিছু টাকা আসবে। খুব রাগ লাগতো তখন। আসলে ও টাকা রাখতে পারতো না। তাই আমি বলতাম, টাকা আমার হাতে দেবে। আমি খরচ করবো। যেকোনো স্ত্রীই এটা বলতে পারে যদি সেই মেয়ে জানতে পারে যে তার স্বামী সংসার চালাতে অক্ষম।

আগের বিয়ে প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ও প্রচণ্ড মিথ্যেবাদী একটা লোক। ওকি জানতো না যে আমার আরেকটা বিয়ে হয়েছিলো ওর আগে। অবশ্যই জানতো। কেননা, আমি নিজে তাকে সেটি বলেছিলাম। আমি একজন অভিনেত্রী। চাইলেও নিজের জীবেনর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লুকাতে পারি না। কোনো না কোনোভাবে জেনেই যায় সবাই। এই যে আমি এত চেষ্টা করলাম বিচ্ছেদ লুকিয়ে রাখতে মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে, সেটি কী পেরেছি। পারিনি। তবে কেন বিয়ের কথা লুকাবো আমি। নিজে ওকে বলেছিলাম আগের বিয়ের কথা। আমাদের বিয়ের পর গণমাধ্যমে নিউজও হয়েছে আমার ও সনেটের- দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। সে ভুলে গেলেও পত্রিকার আর্কাইভে কিন্তু রয়ে গেছে সব।

বাঁধন আরো বলেন, সংসার খরচের টাকা-পয়সা নিয়েই প্রথম ঝামেলা হয় এই দম্পতির। সে থেকে মনোমালিন্য করে বাবার বাড়ি চলে যান বাঁধন। এটি বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই। অবশেষে পারিবারিক মধ্যস্থতায় আপোষ হলে বাঁধনের বাবার বাড়িতেই গিয়ে উঠেন সনেট। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না এই সংসারের। ২০১৪ সালের ১০ আগস্ট সনেটের কাছ থেকে ডিভোর্স চেয়ে আবেদন করেন বাঁধন।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে সংসার জোড়া লাগাতে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন বাঁধন। কিন্তু সেখান থেকে নিরাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, মেয়েকে তার বাবা আর মাকে একসঙ্গে কাছে পাওয়ার সুযোগ করে দিতে, ভাঙা ঘর জোড়া লাগাতে মাশরুরের সঙ্গে মেয়েকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলাম। আর ফেসবুকে প্রকাশিত ছবিগুলো মালয়েশিয়ায় সায়রার বাবার তোলা। ‘

এর আগে ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই ব্যবসায়ী মাশরুর সিদ্দিকীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পারিবারিকভাবেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি। এরপর সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন।

বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনটি করেছিলেন ২০১৪ সালের আগস্টের ১০ তারিখ। বিচ্ছেদ চাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর ৯০ দিন পার হয়ে গেলেও দুই পক্ষের কেউই আপোস মীমাংসার জন্য উপস্থিত হননি এবং কোনো আবেদন করেননি। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই বিচ্ছেদটি গৃহীত হয় ২৬ নভেম্বর। তবে ডিভোর্স সার্টিফিকেটে বিচ্ছেদের তারিখ হিসেবে ১০ আগস্টকেই গণ্য করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে চেপে যাওয়ার কারণ হিসেবে বাঁধন বলেছেন মেয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব যাতে না পড়ে তার জন্যই বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে আলোচনা করতে সম্মত হননি। তিনি বলেন, ‘কিন্তু যখন দেখছি মেয়ের বাবা ওকে আমার কাছ থেকে সরিয়ে নিতে চাইছে বাধ্য হয়েই তখন প্রকাশ্যে আসতে হলো। ’

বাঁধন জানিয়েছেন , ‘মালয়েশিয়া থেকে ফেরার কিছুদিন পর জানতে পারি মাশরুর আরেকটি বিয়ে করেছে। তার বর্তমান স্ত্রী কানাডার নাগরিক। কিন্তু এই বিষয়ে মাশরুর এতদিন আমাকে কিছুই জানতে দেয়নি। এখন মাশরুর সিদ্দিকী মেয়ে সায়রাকে কানাডায় নিয়ে যেতে চান বলেও জানান বাঁধন। বলেন,মাশরুর তার বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে কানাডায় বসবাস করার পরিকল্পনা করেছে। সঙ্গে সায়রাকে নিয়ে যেতে চায়। মেয়ের জন্মের পর কোনো খোঁজ রাখেনি ও। এখন হঠাৎ মেয়েকে দেশ ছাড়া করতে চাইছে। ‘

তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। কারণ এ ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই। আমি পারিবারিক আদালতে মামলা করেছি। মামলাটি এখন চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মেয়েকে আমার কাছে রাখতে চাই। তারপরের সিদ্ধান্ত মেয়ের। ’