নাটোরে পরকিয়ায় মত্ত স্বামীর পথে বাধা হয়ে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার নববধু ফাতেমা

নাটোর প্রতিনিধি-

স্বামীর পরকীয়া প্রেমের প্রতিবাদ ও বাধা দিতে গিয়ে লাশ হলো নববধূ ফাতেমা বেগম (১৮)। গত ঈদের পরের দিন নাটোরের বড়াইগ্রামের গোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে রুবেল হোসেনের সাথে বিয়ে হয়  সিরাজগঞ্জ জেলার কড্ডার মোড় এলাকার আকবর আলীর মেয়ে ফাতেমা বেগমের ।

বিয়ের মাত্র কদিন পরই নববধূ ফাতেমা জানতে পারে জনৈক ভাবী ও একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে স্বামীর। আর এই সন্দেহে স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও মারধেরর করার ঘটনা ঘটতো।

অবশেষে সেই কলহ থেকেই নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হলো ফাতেমা । গলাটিপে হত্যা করার অভিযোগে পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফাতেমার স্বামী রুবেল হোসেন (২৩), ভাসুর জুয়েল হোসেন (৩০) ও শ্বশুর খোকন মিয়া (৫৬)কে গ্রেপ্তার করে নাটোর জেলা হাজতে প্রেরণ করেছে। এর আগে বুধবার দুপুুরে পুলিশ স্বামী রুবেল হোসেনের বাড়ি থেকে ওই নববধূর লাশ উদ্ধার করে।

প্রাথমিক তদন্ত ও প্রতিবেশিদের মাধ্যমে জানা গেছে, বুধবার সকালে কোনো এক সময় ফাতেমাকে গলা টিপে হত্যার পর গলায় দড়ি লাগিয়ে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আতœহত্যা করেছে বলে প্রচারণা চালায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কিন্তু পুলিশের কাছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রতিবেশী ও ফাতেমার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে।

গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ফাতেমার মৃতদেহ আমি দেখেছি। তার গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন রয়েছে। তবে কিভাবে ও কখন সে লাশ হলো তা বলতে পারবো না।

ফাতেমার বাবা আকবর আলী জানান, তার মেয়েকে রুবেলসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন গলাটিপে হত্যা করে প্রচার চালিয়েছে ফাতেমা আতœহত্যা করেছে। এ ব্যাপারে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, বুধবার বিকেলে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নাটোর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হলেও বৃহস্পতিবার বেলা ২টা পর্যন্ত (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি এবং লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেনি।
এ প্রসঙ্গে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহরিয়ার খান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ফাতেমার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি হত্যা হিসেবে প্রমাণ মিলেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত দুই ছেলেসহ বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুুরে জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।