ফরিদপুরে রুকসুর উদ্যেগে বাল্য বিবাহ থেকে মুক্তি পেল কিশোরী

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সরকারি কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংসদ (রুকসু) এর জিএস তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ানের এক অভিনব উদ্যেগে বাল্য বিবাহ থেকে মুক্তি পেল নাদিরা (১৪) নামে এক কিশোরী।

গতকাল শুক্রবার সকালে ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের লালখাঁর মোড় এলাকায় নাদিরার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নাদিরা স্থানীয় একটি স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী বলে জানা যায়।

স্থানীয় ও কিশোরীর পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বুধবার বিকালে ‘এসো জাতি গড়ি’ (এজাগ) এর নিবার্হী পরিচালক নাজমা আক্তারের মাধ্যমে নাবালিকা মেয়ে নাদিরার বিয়ের সংবাদ জানতে পায় রিয়ান। পরে ওই দিনই মেয়ে পক্ষকে বাল্য বিবাহের কুফল ও আইন প্রসঙ্গে অবহিত করে বিবাহ বন্ধের অনুরোধ করা হলে নাদিরার বাবা, মা, দাদা ও আত্মীয়স্বজন কথা দেয় যে এ বিয়ে তারা আর দিবেন না। কিন্তু শুক্রবার সকালে অর্থাৎ ২৮-০৯-২০১৭ইং তারিখ আবার জানতে পারে নাদিরাদের বাড়ীতে প্যান্ডেল সাজিয়ে সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে ধুমধাম করে নাবালিকা নাদিরাকে বিবাহ দেয়া হচ্ছে। সেখানে তাদের আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও গ্রামের ৪০০ থেকে ৫০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি, এলাকার গণ্যমান্য ও জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকের সহযোগীতায় বিয়ে পন্ড করতে সক্ষম হয়।

এ ব্যাপারে তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান বলেন, গত বুধবার দুপুর হঠাৎ আমার ফোনে একটা কল আসে, আর কলটি দিয়েছিলো “এসো জাতি গড়ি (এজাগ)” এর নির্বাহী পরিচালক, নাজমা আক্তার। সে আমাকে বললেন, বাবা একটু ঝামেলা হয়েছে। একটা ছোট বাচ্চা মেয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, ঠেকাতে হবে। তুমি আসো একটু। আমি অবাক হলাম এবং সঙ্গে সঙ্গে রওনা হলাম ঔ স্থানে। রিয়ান বলেন, গিয়ে দেখি এক দল গ্রামবাসী এবং তার প্রতিকূলে শুধু নাজমা আক্তার তর্ক করছে, সে বোঝাতে চেষ্টা করছে বাল্য বিবাহের কুফল ও বাস্তবতা কিন্তু অন্যদিকে গ্রামবাসী ছোট, বড়, বুড়োসহ সবাই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।

রিয়ান আরো বলেন, আমি যাওয়ার পর সর্বপ্রথম সেখানকার সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি মেম্বার কে ডাকলাম এবং তাকে বিভিন্নভাবে চার্জ করলাম ও এই বিষয়ে তার সহযোগিতা পেলাম। পরে তার ও এলাকাবাসির সহযোগিতায় বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে সক্ষম হই।