অবরোধকে কেন্দ্র করে চরফ্যাসনে চলছে ইলিশ মজুদের মহাৎসব

এস আই মুকুল, ভোলা প্রতিনিধি: আজ শনিবার রাত ১২টা থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশসহ সব ধরনের ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধকে কেন্দ্র করে চরফ্যাসনে চলছে ইলিশ মজুদের মহাউৎসব। আজ শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই উপজেলার মৎসঘাটগুলোতে এমনি চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে মেঘনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। সকাল সন্ধ্যা কিংবা রাতে সমুদ্রে ইলিশ শিকার করে ট্রলার বোঝাই করে ফিরছে সমুদ্রের জেলেরা। গত দুই সপ্তাহ ধরে এক একটি ট্রলারে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত ইলিশ পেয়েছে। প্রতিমন ইলিশ ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ (৮ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর) মৎস্য আবতরন কেন্দ্রে ৮৬৬ মেট্রিকটন ইলিশ বিক্রি করা হয়। এ থেকে সরকারি রাজস্ব আদায় হয় ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৫শ ৩০ টাকা।

গত কয়েক সপ্তাহে মাছের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারন মানুষে নাগালের বাইরে এ সব মাছ। চরফ্যাসন উপজেলার চর কচ্ছপিয়া মৎস্য ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশে সয়লাব থাকায় জেলে ট্রলার মালিক পাইকার ও আড়ৎদারদের পদচারনায় এখন মুখরিত মৎস্য ঘাট। তাদের ব্যস্ততায় এখন এমন অবস্থা যেন ধম ফেলার সুযোগ নেই। জেলে ট্রলারের জাকির মাঝি, নাসির, রিপন, ইউনুস ও জলিল বলেন, এখন আবহাওয়া কিছুটা ভাল হওয়াতে এবং পূবাল বাতাস না থাকায় গভীর সমুদ্রে এখন অনেক মাছ পাওয়া যাচ্ছে।

চরফ্যাসন উপজেলা মৎস্যজীবীলীগের সভাপতি সফিউল্লাহ পালোয়ান বলেন, বিগত দিনে মা ইলিশ রক্ষায়, অবরোধের সময় এবং অবৈধ জাল বন্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করার কারণে এতটা ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পরছে বলে বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সমুদ্র থেকে মাছ ভারত পাচার হওয়ায় এই সকল এলাকায় মাছের দাম চড়া থাকে বলে মনে হচ্ছে আমার।

চরফ্যাসন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ হালদার জানান, ১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ রক্ষায় সাড়াশি অভিযান চালানো হবে। জেলা ও উপজেলা মৎস্য দফতর, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, থানা পুলিশসহ অসংখ্য টিম সার্বক্ষণিক নজরদারী করবে। কোথাও কেউ আইন ভঙ্গ করলেই সাথে সাথে তাকে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই অভিযান রাতেও পরিচালনা করা হবে। অবৈধ পথে ইলিশ পাচার রোধেও নৌ পুলিশের টহল জোরদার থাকবে।