পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর হোসেনি দালান থেকে তাজিয়া মিছিল শুরু

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা-
‘নীল সিয়া আসমান, লালে লাল দুনিয়া/আম্মাগো লাল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া/কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে/সে কাঁদনে আঁসু আনে সীমারের ছোরাতে।’

আজ ১০ মহররম। পবিত্র আশুরা। ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম হৃদয় বিদারক ও মর্মস্পর্শী একটি দিন। বিশ্ব ইতিহাসেও এটি একটি বর্বরতম ঘটনার জন্য স্মরণীয় দিন।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর হোসেনি দালান থেকে তাজিয়া মিছিল বের করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টার দিকে মিছিলটি বের করা হয়।

তাজিয়া মিছিলকে ঘিরে হোসেনি দালান এলাকায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। হায় হোসেন, হায় হোসেন মাতমে এগিয়ে যান মিছিলে অংশ নেয়া মুসলমানরা।

তাজিয়া মিছিলে ধাতব পদার্থ, ছুরি-কাঁচি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। তাজিয়া মিছিলের চারপাশে ঘিরে রয়েছেন আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

এদিনে ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে পৃথিবীর নির্মমতম ঘটনার অবতারণা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) মাত্র ৭২ জন সহযোগী নিয়ে ইয়াজিদের বিশাল বাহিনীর সঙ্গে জিহাদ করে শহীদ হন। তার আগে ইয়াজিদ বাহিনীর ঘাতকরা একে একে হত্যা করে ইমাম হোসেন (রাঃ) এর স্ত্রী, পুত্র ও সকল নিকটাত্মীয়কে।

মুসলিম জাহানের তৎকালীন স্ব ঘোষিত খলিফা ইয়াজিদ দায়িত্ব তুলে দেয়ার কথা বলে কুফা নগরীতে আমন্ত্রণ জানায় হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) কে। পথে কারবালার প্রান্তরে অবরুদ্ধ করা হয় তাদের। তৃষ্ণার্ত ইমাম হোসেনকে (রাঃ) ফোরাত নদীর পানি পর্যন্ত পান করতে দেয়া হয়নি।

তার সব সঙ্গী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হওয়ার পর নির্মম সীমারের হাতে শহীদ হন মহানবীর প্রিয় দৌহিত্র। ইয়াজিদ ঘোষিত পুরস্কারের লোভে সীমার এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

কারবালার ঘটনা ছাড়া আরো অনেক কারণে ১০ মহররম মুসলিম বিশ্বে তাৎপর্যমণ্ডিত। ইসলামের ইতিহাসে এদিনে অনেক ঘটনা ঘটেছিল। এদিনেই আল্লাহতায়ালা এ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এদিনেই পৃথিবী ধ্বংস করবেন।

এদিনে অনেক নবী-রাসূল জন্ম গ্রহণ করেন। আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) এর তওবা কবুল হয়েছিল এদিনে। এদিনই হযরত নুহ (আঃ) ও তার সঙ্গীরা ভয়াবহ প্লাবন থেকে মুক্তি পান।

হযরত ইউনুস (আঃ) মাছের পেট থেকে মুক্তি পান। প্রায় ১৪০০ বছর ধরে সারা বিশ্বের মুসলমান ১০ মহররমের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে রোজা রাখেন।

এদিনটি তাই একদিকে মুসলমানদের জন্য শোকাবহ, অন্যদিকে তাৎপর্যমণ্ডিত। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল ও মাতম করে শোক প্রকাশ করেন শিয়া সম্প্রাদায়ের লোকজন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এদিকে গত ২০১৫ইং সালে আশুরার দিনে পুরান ঢাকার হোসনি দালান থেকে মিছিল বের করার প্রাক্কালে সন্ত্রাসী হামলার কারণে এবার আশুরার কর্মসূচিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হোসাইনি দালান এলাকায় এবার আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তাজিয়া মিছিল ও আশুরার কর্মসূচিতে দা, কাচি, ছুরি বা ধারালো কোনো অস্ত্র না নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যার আগেই কর্মসূচি শেষ করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।