শ্রীপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের পরিবারকে হয়রানীর অভিযোগ

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :

গাজীপুরের শ্রীপুরে জমির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সংঘবদ্ধ একটি দালাল চক্র সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যদেরকে নানাভাবে হয়রানী করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রয়াত আবদুল বছির সরকার নামে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলেদের কাছে বৈধ সকল প্রকার কাগজপত্র থাকার পরও তাদের দখলে থাকা ১৭৫ শতাংশ জমি আত্মসাতের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে দালাল চক্রটি। স্থানীয় ভূমি অফিস বারবার তদন্ত করে সঠিক প্রতিবেদন দেওয়ার পরও দালালরা থেমে নেই। বিভিন্ন বিভাগে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে পরিবারটিকে ক্রমাগত হয়রানী করেই চলছে।

জানা যায়, আবদুল বছির মাওনা মৌজার এসএ ১৮৪৫, আরএস ১৬৪৬ নং খতিয়ানের এসএ ৪৮৬৬, ৪৯৩০ এবং আর এস ২২০৭৭,২২১৭৩ নং দাগে  রেকর্ডীয় মালিক মো. মইজুদ্দিন সরকার ও তার ভাই তইজুদ্দিন সরকারের স্ত্রী সেতারা বেগমের কাছ থেকে ১৯৭২ সালে ৬০০৮, ৭৫৬৫ ও ৭৩৫৬ নং দলিল মূলে মালিক হয়ে ভোগ দখল করে আসছেন। বছির সরকার মৃত্যু বরণের পর থেকে ওই জমি তার  ৮ ছেলে মহাম্মদ আলী, আহাম্মদ আলী,এবাদত আলী, মোজাম্মেলক হক,মিনহাজ সরকার,মেহের আলী ও জুলহাস সরকার  চাষাবাদ করে আসছেন। প্রায় ৪৫ বছর ধরে দখলে থাকা ওই জমির ওপর হঠাৎ করেই দৃষ্টি পড়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা কালিয়াকৈরের ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর মুথাজুড়ি গ্রামের প্রয়াত তমিজ উদ্দিন সরকারের ছেলে মতিউর রহমান ও জুয়েল সরকার গং এর। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে  নিজেদের নামে নামজারী ও জমা ভাগও করে নেয় তারা।

পরে বিষয়টি টের পেয়ে আহাম্মদ আলী গং শ্রীপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ওই নামজারী জামাভাগ বাতিলের জন্য মিসকেস করেন। দীর্ঘ শুনানীর পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দখলদারিত্ব না থাকায়  ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওই জমির নামজারী ও জমাভাগ বাতিল করে দেন। আহাম্মদ আলী গংয়ের নামে পুনরায় নামজারী ও জমাভাগ করার জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে প্রস্তাব পাঠায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সেই প্রেক্ষিতে আহাম্মদ আলী গংয়ের নামে নতুন করে  নামজারী ও জমাভাগ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

এই নামজারী ও জমাভাগের বিরুদ্ধেও আপত্তি জানায় মতিউর গং। অবশেষে গত রোববার দীর্ঘ শুনানীর পর আপত্তিটি খারিজ করে দিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন সহকারী কমিশনার। এরই মধ্যে হয়রানী করার জন্য আহাম্মদ আলী গংয়ের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মতিউর রহমান। অন্যদিকে আবদুল বছির সরকারের ছেলে মেহের আলী শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুম রেজা বলেন, মতিউর গং এর নামে করা নামজারী ও জমাভাগ  নিয়মানুযায়ী কাগজপত্রের ভিত্তিতে বাতিল করা হয়েছে। আহাম্মদ গং এর নামে নতুন নামজারী ও জমাভাগ দেওয়া হয়েছে। এর পরও যদি কারো কোন আপত্তি থাকে তাহলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।