প্রধান বিচারপতির ছুটির পেছনে অন্য কারণ: খন্দকার মাহবুব

সময়ের কণ্ঠস্বর- সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশ নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনার মুখে হঠাৎ এক মাসের ছুটিতে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

প্রধান বিচারপতির এ ছুটি চাওয়াকে রহস্যজনক, অপ্রত্যাশিত এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। সোমবার রাতে বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাহবুব হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস পর সুপ্রিমকোর্ট খুলছে। রেওয়াজ অনুযায়ী দীর্ঘ অবকাশের পর কোর্ট যখন খোলে তখন প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিরা আইনজীবীদের সঙ্গে মিলিত হন। এবারও সেই অবস্থায় আমাদের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চা চক্রের আয়োজন করা হয়েছিল। আমরা সেখানে আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ প্রধান বিচারপতি এক মাসের ছুটি চেয়েছেন। এটা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হয়। আমরা মনে করি, এর পেছনে হয়তোবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে।

তিনি বলেন, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলা মুলতবি আছে। এর মধ্যে ৫ জানুয়ারি (২০১৪) ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়েছিল। সেখানে ১৫৩ জন বিনাভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাটি হাইকোর্ট খারিজ করে দেন। এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। সে মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে মুলতবি আছে। আমার মনে হয়, এ সাংবিধানিক মামলাটি যাতে এস কে সিনহা নিষ্পত্তি না করতে পারেন ও রায় দিতে না পারেন সে কারণে হয়তোবা অন্য কোনো চাপের মুখে তাকে ছুটির দরখাস্ত করতে হয়েছে। কারণ, সরকার ইতিমধ্যে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রধান বিচারপতি এ মামলাটি শুনতেন। যেহেতু এটা সাংবিধানিক পয়েন্ট তাই আমার মনে হয় সাত দিনে শেষ হয়ে যেত।’ সাত দিনে আসলে সম্ভব কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব বলেন, ‘আপিল বিভাগে শুনানির জন্য রয়েছে। সাত-আট দিন অথবা সর্বোচ্চ এক মাস লাগত। তিনি যাতে শুনানি নেয়ার সুযোগ না পান সে কারণেই এ দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কিছু দিন আগেই প্রধান বিচারপতি সুস্থ শরীরে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। হঠাৎ তিনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তবে এর জন্য এক মাসের ছুটি আগ বাড়িয়ে নেয়ার কারণ আছে বলে মনে করি না। এখন তিনি কী অবস্থায় আছেন আমরা সেটা জানি না।’

রবি