বেলকুচিতে বাস-সিএনজির মুখোমুখী সংঘর্ষ, নার্সিং শিক্ষার্থীসহ নিহত ২

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি- সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় বাস ও সিএনজির মুখোমুখী সংঘর্ষে নার্সিং ইন্সিটিউটের এক শিক্ষার্থীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো ৩ জন।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে সিরাজগঞ্জ-বেলকুচি আঞ্চলিক সড়কের তামাই বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- খাজা ইউনুস আলী (রঃ) নার্সিং ইন্সিটিটিউট শিক্ষার্থী পাবনা জেলার চাটমহর উপজেলার বোয়ালমারি গ্রামের রহিচ উদ্দিনের মেয়ে রিমা খাতুন (২২) এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দেলুয়া গ্রামের মৃত আলমগীর হোসেনের ছেলে রাব্বি হোসেন (৩৫)।

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, পাবনা থেকে ঢাকাগামী এস.কে.পি পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-জ-১৪-০৪২৮) জেলার এনায়েরপুর হয়ে বেলকুচি দিয়ে যাবার পথে তামাই এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজির সাথে মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজি যাত্রী রাব্বির মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হয় অন্তত ৪ জন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ সময় হাসপাতালে আনার পর রিমা খাতুনের মৃত্যু হয়।

এদিকে রিমার অকাল মৃত্যুতে খাজা ইউনুস আলী (রঃ) নার্সিং ইন্সিটিটিউটসহ সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

রিমার সহপাঠী লিমা খাতুন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, রিমা ১০ ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। সে গত ২৯ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ৫ দিনের ছুটি পেয়ে গ্রামের বাড়ি পাবনা যায়। আজ নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ায় রিমা সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড় থেকে সিএনজি যোগে হোস্টেলে ফেরার পথে সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর সড়কের তামাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, আমরা এখানে এসেছি পড়াশোনা করে চাকরি করে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য, লাশ হয়ে অপমৃত্যুর খাতায় নাম লেখাতে নয়। দুর্ঘটনায় শুধু রিমার মৃত্যু হয়নি, মৃত্যু হয়েছে একটি পরিবারের স্বপ্ন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিমার এই সহপাঠী আরও বলেন, পরিবারের অভাব-অনটনের মধ্যে তাকে নার্সিং ইন্সিটিটিউটে ভর্তি করিয়েছিলেন, কিন্তু চালকদের বেপরোয়া গতির কারণে আমাদের সহপাঠিকে অকালে ঝড়ে পড়তে হয়েছে। এটা মৃত্যু না, হত্যাকাণ্ড। আমরা এর বিচার চাই।’

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি