বালিয়াডাঙ্গিতে উতসবমুখর পরিবেশে তালগাছ রোপন কর্মসুচীর উদ্ভোধন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর –

দিন দিন বিলুপ্তির পথে তালগাছ রক্ষার্থে ও বর্ষাকালে আকাশের পড়া শিল বা বজ্রপাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সারাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশনায় চলছে তালের বীজ রোপন কর্মসুচী। দেশজুড়ে দশ লাখ তাল গাছ লাগিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সরকার। বজ্রপাতে মৃত্যু ঠেকানোর জন্য এটাই সবচেয়ে কার্যকর স্থানীয় প্রযুক্তি বলে বিবেচনা করছেন সরকারী কর্মকর্তারা।

বজ্রপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে আজ এই কর্মসুচীর আওতায় ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়ন পরিষদের বারঢালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঠাকুরগাঁও যাওয়ার রাস্তায় তালের বীজ রোপণ কর্মসুচীর উদ্ভোধন হয়েছে।

আজ বুধবার পরিবেশ রক্ষায় ও জনসচেতনামুলক এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বালিয়াডাঙ্গি উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ সফিকুল ইসলাম, উপজেলা র্নিবাহী অফিসার মোঃ আঃ মান্নান, উপস্থিত ছিলেন, দুওসুও ইউপির চেয়ারম্যান  মোঃ আব্দুস সালামসহ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানগণ।

উদ্ভোধন কর্মসুচিতে  উপজেলা র্নিবাহী অফিসার আঃ মান্নান বলেন, তালগাছ আগামী দিনের কৃষি, কৃষক ও পরিবেশের পরমবান্ধব। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, আইলা, সিডর, নার্গিস, শেফালী মোকাবিলায় তালগাছ মাথা উঁচু করে বুক পেতে দেবে মানব আর মানববসতি রক্ষায়। শুধু এতেই শেষ নয়, পাখিরা নিরাপদ নিবিড় আবাস গড়বে তালগাছের বনায়নে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম

সাবেক ছাত্রনেতা ও দুওসুও ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম তার বক্তব্যে বলেন, গ্রামের পর গ্রাম ঘুরলেও এখন আর তাল গাছ দেখা যায় না। একইভাবে বড় আকারের গাছও এখন আর তেমন নেই। দেশব্যাপী বনায়ন হলেও তা আকারের দিক থেকে বড় হয়ে ওঠেনি। মূলত এ কারণে বজ্রপাতে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া বজ্রপাতের আগাম পূর্বাভাস পাওয়া যায় না। তাই এ দুর্যোগ থেকে সাধারণ মানুষ যেন রেহাই পায় সেজন্য দেশব্যাপী তালগাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের সেই উদ্যেগের সাথে সমন্বয় রেখে আমরা জনসচতেনতায় কাজ করে যাচ্ছি।

বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে দেশব্যাপী তালগাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

ইতোমধ্যেই সরকারি উদ্যোগে ১০ লাখ তালগাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নারিকেল গাছের চারা রোপণেরও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, গ্রামেগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে তালগাছ ও নারিকেল গাছ থাকলে সেগুলো বজ্র নিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে। এর ফলে বজ্রপাতে নিহত হওয়ার ঘটনা এড়ানো যাবে বলে আশা করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, দেশে বজ্রপাতের ঘটনা আগের চেয়ে বেড়েছে। গত বছর দেশে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন প্রায় সাড়ে চারশ’ মানুষ। এর মধ্যে একদিনেই মারা যান ৮২ জন। বিষয়টি তখন সংবাদমাধ্যমসহ সর্বত্র ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন,বজ্রপাত যেহেতু সাধারণত উঁচু কোন কিছুতে আঘাত করে, সেজন্য উঁচু গাছ হিসেবে তালগাছকেই তারা বেছে নিয়েছেন বজ্রপাত ঠেকানোর জন্য। তাদের ভাষায় বজ্রপাতে মৃত্যু ঠেকানোর জন্য এটাই সবচেয়ে কার্যকর স্থানীয় প্রযুক্তি।

এসব মৃত্যুর ঘটনায় কালবৈশাখী-ঘূর্ণিঝড়, বন্যা-জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প-অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে নতুন দুর্যোগ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বজ্রপাত। বিষয়টি সরকারকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এটিকে নতুন দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যাপক আলোচনা ও পর্যালোচনা করেছে। সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় সর্বত্রই তালগাছসহ বড় বড় গাছের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে।

প্রচলিত আছে, আগে বজ্রপাত হলে তা তালগাছ বা অন্য কোনও বড় গাছের ওপর পড়তো। বজ্রপাত এক ধরণের বিদ্যুৎ রশ্মি। তাই বজ্রপাতের ওই রশ্মি গাছ হয়ে তা মাটিতে চলে যেত। এতে জনমানুষের তেমন ক্ষতি হতো না।