ফিনল্যান্ডের মসজিদে তাণ্ডব চালিয়ে গ্রেপ্তার হলেন বিএনপি সভাপতি

প্রবাসের কথা ডেস্ক- ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে নারী নির্যাতনের একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জের ধরে মসজিদ প্রাঙ্গণে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে মামলার প্রধান আসামি ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান জনি ও তার অনুসারীরা।

এ ঘটনায় জনিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষে গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত সামসুল নামের ওই বাংলাদেশির মাথায় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার দুপুরে হেলসিংকির কনতুলা মসজিদ প্রাঙ্গণের এ ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদন ফিনল্যান্ডের প্রায় প্রতিটি জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন ফলাও করে প্রচার করে। পুলিশ বলছে, ওই হামলায় অন্তত ৬০ জন অংশ নেয়, যাকে ‘নজিরবিহীন’ ঘটনা হিসেবে দেখছেন তারা।

সম্প্রতি তুর্কু মার্কেট স্কয়ারে এক সন্ত্রাসী হামলার পর ফিনল্যান্ডে বসবাসরত প্রবাসীরা এমনিতেই বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। মরক্কোর এক নাগরিকের ওই ছোরা হামলায় দুই জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন।

শুক্রবারের ঘটনার পর বাংলাদেশিদের মধ্যেও অস্বস্তি বিরাজ করছে। কেউ কেউ ঘটনার পর বাংলাদেশিদের করা ওই মসজিদ থাকবে কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন। জনি ছাড়া গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন জুলফিকার আশরাফ সাগর, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুর রশিদ ও জাকির হোসেন।

একটি সূত্র জানিয়েছে এ ঘটনায় ওই পাঁচজনের কথা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হলেও জনির ভাগ্নে ‘লিউ’ নামের আরও একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

নারী নির্যাতন ছাড়াও বেশ কয়েকটি মামলায় এর আগেও বিভিন্ন সময় ফিনল্যান্ডে গ্রেপ্তার হয়েছেন কামরুল হাসান জনি। তার বিরুদ্ধে একটি মামলার কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ মাসেই ওই মামলার রায় ঘোষণার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরে জুম্মার নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে নারী নির্যাতনের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে জনি ও তার অনুসারীরা সাক্ষীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাদের হাতে গলফ স্টিক, হকি স্টিক ছাড়াও লাঠিসোটা দেখা যায়।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি